আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় যুবির

0
200

দ্য পিপল ডেস্কঃ  আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন ২০১১ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় যুবরাজ সিং।  সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন কিংবদন্তী ভারতীয় অলরাউন্ডার।

কিছুদিন আগে প্রকাশিত একটি খবরে জানা যায়, স্বাধীন খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন বিদেশি লিগ খেলার জন্যই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত তাঁর। ক্যারিবিয়ান লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিগ ব্যাশের মতো লিগগুলিতে খেলার জন্য এমন সিদ্ধান্ত যুবির ।

ভারতীয় জার্সিতে মোট ম্যাচঃ

এক দিনের ম্যাচঃ ৩০৪টি (শতরান – ১৪, অর্ধশতরান – ৫২)

টেস্ট ম্যাচঃ ৪০টি (শতরান – ৩টি, অর্ধশতরান – ১১টি)

টি-টোয়েন্টি ম্যাচঃ ৫৮টি ( অর্ধশতরান – ৮টি)  

আন্তর্জাতিক কেরিয়ারঃ

রনজি ট্রফি, অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরমেন্সের জেরেই ভারতীয় সিনিয়র দলে ডাক পান যুবরাজ সিং।  ২০০০ সালে আইসিসি নকআউট ট্রফিতে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় মেডেন ব্লু জার্সিতে অভিষেক হয় পাঞ্জাবের ছেলের। সেই ম্যাচে ব্যাটের সুযোগ না পেলেও বল হাতে জাদু দেখিয়েছিলেন তিনি। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রেট লি, ম্যাগ্রাথদের বিরুদ্ধে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস নজর কাড়ে সবার। এই প্রতিযোগিতার পর তাঁকে জিম্বাবোয়ে সিরিজে বসিয়ে দেওয়া হয়।

ফের ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে কোকা কোলা সিরিজে ডাক পান যুবরাজ। এই সিরিজে প্রথম চারটি ম্যাচে হতাশ করলেও পঞ্চম ম্যাচে ৯৮ রানের নটআউট ইনিংস খেলেন তিনি।  বল-ব্যাট উভয়েই নিজের ভারতীয় দলে নিজের ছাপ ফেলেছিলেন তিনি।

২০০১ নেটওয়েস্ট সিরিজঃ

যুবরাজের কেরিয়ারের সবথেকে গুরুত্বপূর্ন মুহুর্ত। ইংল্যান্ডের মাটিতে নেটওয়েস্ট সিরিজে ভারতের দলে স্থান পেয়েছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে লর্ডসের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালে মুখোমুখি ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলির অধিনায়কত্বে সেই ম্যাচ এখনও স্মরণীয়।  ব্যাট হাতে ৬৪ রানের ইনিংস এবং বোলিংয়ে ৩৯ রানে ৩ টি উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। সেই অলরাউন্ডার পারফরমেন্সের জেরেই সেদিনের ম্যাচের সঙ্গে ২-১-এ সিরিজ জিতেছিল ভারত।

২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ

ফিল্ডিং এবং পাওয়ার হিটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন যুবরাজ। আইসিসি প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর মারকুটে স্বভাব প্রতিফলিত হয়েছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে, ইংল্যান্ড বনাম ভারতের ম্যাচে স্টুয়ার্ট বর্ডকে ৬টি বলে ৬ হাঁকায় তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১২ বলে ৫০ রান করেন যুবি। এটি টি-টোয়েন্টির দ্রুত অর্ধশতরান।  এছাড়াও সেমিফাইনালে অজিদের বিরুদ্ধে ৭০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসই জয় এনে দিয়েছিল ভারতকে।

২০১১ বিশ্বকাপঃ

২০১১ বিশ্বকাপ হল যুবরাজের ক্রিকেট জীবনের গোল্ডেন মুভমেন্ট। এই প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি। ব্যাট ও বল উভয় দিক থেকেই সাফল্য পেয়েছিলেন।  একজন ওলরাউন্ডার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন যুবরাজ। সেই বিশ্বকাপে ১৫টি উইকেট এবং ৩৬২ রান করেছিলেন যুবরাজ। তার মধ্যে ছিল ১টি শতরান ও ৪টি অর্ধশতরান। কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া ও ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে শেষ মুহুর্তে ধোনির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ন  পার্টনারশিপ গড়ে ২৮ বছর পর কাপ এনে দিয়েছিলেন যুবরাজ ।

ক্যান্সার আক্রান্ত

২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীন ক্যান্সার ধরা পড়ে যুবরাজের। এরপর এক বছর ট্রিটমেন্ট চলার পর ২০১২ সালে সুস্থ হয়ে ভারতে ফেরেন তিনি। ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্রিকেট জগতে ফিরেছিলেন তিনি। তবে পারফরমেন্সের জেরে বারবারই দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাঁকে। যদিও ফের যুবরাজকে টি-টোয়েন্টি কাপে ফেরানো হলেও হতাশাজনক পারফরমেন্সের জন্য সরিয়ে দেওয়া হয়। ক্রমশ ধীরে ধীরে জাতীয় দল থেকে নাম সড়তে থাকে যুবরাজের।

যুবরাজের শেষ ম্যাচঃ

২০০৯ সালে ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কেরিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেন তিনি।                

২০১৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন।

২০১৭ সালে  ৩০ জুন অন্তিম একদিনের ম্যাচ খেলেন যুবরাজ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here