রাজনীতির বলি বিভাস 01

দ্য পিপল ডেস্কঃ ২ অক্টোবর। অহিংসার পুজারি মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। শিশুদের তিনি খুব ভালবাসতেন।

সময় পেলেই কচিকাঁচাদের সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠতেন তিনি। গান্ধীজি বলতেন একমাত্র শিশুরাই সবচেয়ে ভাল বোঝে ভালবাসার অর্থ কী। সেই গান্ধীজির জন্মদিনেই হিংসার বলি হয়েছিল নিষ্পাপ বিভাস।

২০১৮ সালের এই দিনেই নাগেরবাজার বিষ্ফোরণ মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়েছিল ছোট্ট বিভাসকে।

আট বছরের ছোট্ট বিভাসের তখনও বোঝার ক্ষমতা হয়নি হিংসা আর অহিংসার তফাৎ কী।

সে শুধু মায়ের হাত ধরে মিষ্টি খেতে গিয়েছিল সে। কিন্তু মিষ্টি মুখ আর হল কই! বরং বিস্ফোরণে ঝলসে গেল গোটা মুখটাই।

রাজনীতির বলি বিভাস, নেওয়া হল না আর জম্মদিনের উপহার

৫ অক্টোবর বিভাসের জন্মদিন। তাই মিষ্টি খেতে যাওয়ার সময় জন্মদিনে কী উপহার নেবে সে, সেই প্ল্যান-ও করছিল।

তখনও সে জানত না, আর কোনদিন সে কোন আবদারই করতে পারবে না।

ঘটনার সূত্রপাত, ২ অক্টোবর, ২০১৮ সাল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ন’টা। নাগেরবাজারে যশোহর রোডের উপর একটি মিষ্টির দোকানের পাশে গুদামের সামনে হঠাৎই প্রবল বিস্ফোরণ হয়।

বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের পর পরই রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় ছিটকে পড়েন বেশ কয়েক জন। গুরুতর জখম ১২ জনের মধ্যেই ছিল ছোট্ট বিভাস ও তার মা।

ওই মিষ্টির দোকানেই কাজ করতেন বিভাসের বাবা জয় ঘোষ। তাঁর স্ত্রী সীতা ঘোষ ওই পাড়াতেই একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন।

তাঁদের আট বছরের ছেলে বিভাস কেকে হিন্দু অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। এ দিন স্কুলে গান্ধী জয়ন্তীর ছুটি ছিল বলে মায়ের সঙ্গে সে কাজের বাড়িতে যাচ্ছিল।

কারণ, একমাত্র ছুটির দিনেই মায়ের সঙ্গে ওই বাড়িতে গিয়ে টিভি দেখত বিভাস। মাঝপথে ওই বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন সীতা ও বিভাস। হাসপাতালে বিভাসের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নাগেরবাজারে পৌঁছয় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল বাহিনী।

প্রাথমিক তদন্তের পর কমিশনার রাজেশ কুমার বলেছিলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সকেট বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই জন্যই বিস্ফোরণের এত প্রবল অভিঘাত।

ঘটনার কেটে গিয়েছে এক বছর। আদৌ সেই নাগেরবাজার বিস্ফোরণ কাণ্ডের কোনো সুরাহা হবে কিনা তা কার্যত অজানা।

সিআইডির এক কর্তার কথায় ঘটনাটি এখনও তদন্তসাপেক্ষ। কারণ ঘটনার দু’দিন পর ডাকা হয় ফরেন্সিক টিমকে।

রাজনীতির বলি বিভাস, কিনারা পায়নি ফরেন্সিক দলক

ফরেন্সিক টিম যাওয়ার আগেই এলাকা পরিস্কার করে দেয় লোকাল থানা। ফলে ফরেন্সিক কার্যত কোনও নমুনাই পায়নি।

তাই আপাতত বিশ বাঁও জলে বিভাসের মৃত্যু রহস্য। বিভাসের মৃত্যুর দিনেও রাজনৈতিক তরজা কিন্তু পিছু ছাড়েনি।

একদিকে যখন জখম বিভাসকে নিয়ে একের পর এক হাসপাতালে ছুটছেন অসহায় বাবা, ঠিক তখনই এ ঘটনার দায় কার? তা নিয়ে ময়দানে হাজির শাসক বনাম বিরোধী।

একদিকে যখন চতুর্থীর সকালে দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছে সকলে, তখনই বিষাদের সুর বিভাসের বাড়ির অন্দরমহলে।

যে রাজনীতি ছাড়ে না একটি নিস্পাপ শিশুকেও, সেই রাজনীতি বাংলার সংস্কৃতিতে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ? প্রশ্ন উঠছে এখানেই। আদৌ কী কোনদিন বিচার পাবে ছোট্ট বিভাস? যে রাজনৈতিক চক্রান্ত মায়ের কোল খালি করে কেড়ে নিল বিভাসকে, কোনো ক্ষতিপূরণই কী পারবে তার মূল্য চোকাতে?

উত্তর অধরাই ….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here