গৌতম ভট্টাচার্য

মাস তিনেক পরেই পুরভোট। তার পরের বছরই রয়েছে মহারণ, বিধানসভা নির্বাচন। ২০২১এর এই নির্বাচনকেই পাখির চোখ করছে শাসক ও বিরোধী দুই পক্ষই। জয় পেতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি। সেকারণে বড় ধরনের বদল হতে চলেছে রাজ্য কমিটিতে।

বড় কোনও পদ দেওয়া হতে পারে তৃণমূল থেকে আসা মুকুল রায়কে। বড় কোনও পদে বসানো হতে পারে সিপিএম ছেড়ে আসা মাফুজা খাতুনকেও।

নবান্নের কুর্সি থেকে তৃণমূলকে সরাতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে পদ্মশিবির। সেই কারণেই ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্য কমিটিতে। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের মাত্র দুটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে সেই আসনই বেড়ে হয়েছে ১৮টি। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি দখলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

যেহেতু লোকসভা নির্বাচনে জয় এসেছে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে, তাই তাঁর হাতেই ফের তুলে দেওয়া হয়েছে দলের ব্যাটন। আগামী তিন বছরের জন্য তিনিই থাকছেন রাজ্য সভাপতি পদে। রাজ্য সভাপতি বাদে বাকি পদগুলিতে নতুন মুখ আনতে চলেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপি সূত্রে খবর, সেখানেই কোনও একটা বড় পদে বসানো হতে পারে একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুকুল রায়কে। কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন মুকুল।

বিজেপিতে যোগ দিয়েও ভাঙন ধরিয়েছিলেন তৃণমূলের গড়ে। তাঁর হাত ধরেই ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম-খাতায় নাম লিখিয়েছন বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী-বিধায়ক। গত দু বছর ধরে সেই মুকুলকেই দলে ব্রাত্য রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ।

তৃণমূল কিংবা অন্য কোনও দল থেকে আসা লোকজনকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সেই কারণেই সক্রিয় হতে দেখা যায়নি তাঁদের। তাঁরা বিজেপিতে রয়েছেন ঠিকই, তবে অনেকটা নিধিরাম সর্দারের মতো।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁদের ভাবমূর্তিকেই ক্যাশ করতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব। যে মেকানিজমের বলে গত বিধানসভা নির্বাচনে শাসক দলের হয়ে ভোট করিয়েছিলেন কিংবা প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন কিংবা জয়ী প্রার্থীকে জোর টক্কর দিয়েছিলেন, সেই মেকানিজমকেই কাজে লাগাতে চাইছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। সেই কারণেই তাঁদেরও সামনের সারিতে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।

বড় কোনও পদে বসানো হতে পারে মাফুজা খাতুনকেও। প্রাক্তন এই বাম বিধায়ক এ রাজ্যে বিজেপির অন্যতম সংখ্যালঘু মুখ।সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে থাবা বসাতে মাফুজাকেই হাতিয়ার করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। তবে কে কোন পদ পাবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে সোমবার পর্যন্ত। কারণ ওই দিনই হবে রাজ্য কমিটিতে রদবদল।

47 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here