মিমো অধিকারী

মঙ্গলের মহাঊষায় ধরাধাম ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন টলিউডের রোমান্টিক যুগের অন্যতম সেরা রোমান্টিক নায়ক তাপস পাল।

চন্দননগরে বেড়ে ওঠা এই নায়কের চোখেই বাঙালি খুঁজে পেয়েছিল উত্তমকুমার-উত্তর রোমান্টিক হিরোকে।

উত্তম-অধ্যায় অবসানের পর বাঙালি যখন মহানায়কের শূন্যস্থান পূরণে পাগলপারা প্রায়, তখনই দাদার কীর্তি সিনেমায় ডেবিউ তাপস পালের।

মফঃস্বল শহরে বেড়ে ওঠা তাপসের মধ্যেই বাঙালি রমণী খুঁজে পেয়েছেন তাঁর আদর্শ প্রেমিক পুরুষটিকে।

যে পুরুষের চোখেমুখে লেগে থাকবে প্রেমের প্রহেলিকা, যার কমনীয় মুখে প্রলেপ থাকবে ভয়মিশ্রিত ভালোবাসার।

তাপসের দু চোখে প্রেমের সেই পরাকাষ্ঠাই খুঁজে পেয়েছে আটের দশকে উদ্ভিন্ন যৌবনা বাঙালি তরুণী।

তাই তাপসের লিপে যখন বাঙালি শুনেছে চরণ ধরিতে দিয়োগো আমারে কিংবা খোঁপার ওই গোলাপ দিয়ে মনটা,শাড়িল আঁচলে সংগোপনে চোখের জল মুছেছেন সেই সময়কার তরুণীরা।

দাদার কীর্তিতে যে কেদারকে আমরা দেখি, সেই কেদারের সারল্যে মুগ্ধ সিনেমার নায়িকা মহুয়া। নায়ক এবং নায়িকা দুজনের চার চোখে ভালোবাসার পরত।

গল্প যত এগিয়েছে, সেই ভালোবাসা ঝরে ঝরে পড়েছে টুপটুপ করে।

উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে দেখে বাঙালি ভ্যালেন্টাইনসরা যেমন কখনও সচেতনে কখনওবা অচেতনে নকল করতেন, তেমনি বাঙালি যুবাদের আদর্শ পুরুষ হয়ে উঠেছিলেন তাপস।

আর রিল লাইফে যাঁরা তাঁর নায়িকা ছিলেন সেই মহুয়া-দেবশ্রী-শতাব্দী হয়ে উঠতে চেয়েছেন সেই সব বঙ্গ ললনারা আটের দশকে যাঁদের শরীরে ডেকেছিল যৌবনের বান।

তাপস যুগের অবসানে শুরু হল প্রসেনজিতের যুগ। চিরঞ্জিত-তাপস-প্রসেনজিতের মধ্যে চিরঞ্জিতকে সেই অর্থে নায়কের ভূমিকায় দেখা যায়নি।

তবে তাপস যুগের অবসানের পর দ্রুত উত্থান হতে থাকে প্রসেনজিতের। উত্তম-উত্তর যুগের এক রোমান্টিক নায়কের জায়গা নিলেন অ্যাংরি ইয়ংম্যান টাইপের প্রসেনজিত।

যিনি প্রেম এবং মারপিটে সমান দড়। মূলত দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন টাইপের চরিত্রের জন্যই বেছে নেওয়া হত প্রসেনজিতকে।

তবে তাপসের ঘরানা ভিন্ন। তাঁর মধ্যেই আটের দশকের বাঙালি তরুণ খুঁজেছেন উত্তমকুমারকে, যেমন তাঁর নায়িকাদের মধ্যে বাঙালি তরুণী খুঁজেছেন সুচিত্রাকে।

এহেন এক বাঙালির মহাপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বাংলা। তাঁর প্রয়াণে চোখের জল ফেলেছেন রুপোলি পর্দায় যাঁরা অভিনয় করেছেন কখনও তাঁর স্ত্রী, কখনও প্রেমিকা আবার কখনওবা বোনের চরিত্রে।

এই ফেয়ারওয়েল উত্তমকুমারের পর আর কোনও অভিনেতা পেয়েছেন বলে মনে হয় না।

তাপসের মৃত্যুতে বাঙালি হারাল আক্ষরিক অর্থেই তার পাশের বাড়ির ছেলেটিকে। তাঁর মতো হিরো পেতে বাঙালিকে আরও কতকাল অপেক্ষা করতে হবে কে জানে!

বুধবার বিলীন হয়ে যাবে তাপসের নশ্বর দেহ।আর পাঁচটা দিনের মতো এদিনও কুলুকুলু রবে বয়ে যাবে পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গা।

সেখানেই ভাসিয়ে দেওয়া হবে তাপসের নশ্বর দেহের শেষ চিহ্ন চিতাভস্ম। বাঙালির বুকে তখনও রিনরিন করে বাজবে চরণ ধরিতে দিয়োগো আমারে…

দ্য পিপল টিভির তরফে শ্রদ্ধার্ঘ জানাই অভিনেতা তথা সাংসদ তাপস পালকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here