দ্য পিপল ডেস্কঃ পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ায় শিক্ষিকা মাকে খুন করে জলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুই মেয়ের বিরুদ্ধে। ক্ষোভে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই মেয়েকে আটকে রেখে মারধর ধরে।

শনিবার সকালে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপুরের পাঁচপুকুর এলাকার একটি পুকুরের জলে বস্তায় মোড়ানো মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। স্থানীয়রাই বস্তা তুলে এনে কল্পনা দে সরকার(৫৩) নামের মৃত শিক্ষিকার দেহ পান।

বাড়িতে খবর দেওয়া হলে দুই মেয়ে আমতা আমতা করতে থাকে। তা দেখে সন্দেহ হওয়াতেই দুই মেয়েকে মারধর শুরু করে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা ছিলেন কল্পনা দে সরকার। বেশ কয়েক বছর আগে স্বামী মারা যান। দুই মেয়েকে নিয়েই থাকতেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা।

স্থানীয়দের দাবি, একটি ছেলের সঙ্গে কল্পনাদেবীর বড় মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তাকে বিয়ে করতে চায় মেয়ে। কিন্তু ওই ছেলেকে পছন্দ না হওয়ায় কল্পনাদেবী বিয়েতে রাজি ছিলেন না। ছোট মেয়ে ছিল দিদির পক্ষে।

এই নিয়ে মা ও দুই মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই বিবাদ চরমে পৌঁছত। প্রেমিক ছেলেটি তার বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে যাওয়া-আসা করত তাও পছন্দ ছিল না শিক্ষিকার। ফলে বিবাদ লেগেই ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গভীর রাতে শিলনোড়া দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হয়। বিবাদের জেরে মাকে শিক্ষা দিতে খুনে প্রেমিকের সাহায্য নিয়েছিল শিক্ষিকার বড় মেয়ে, সঙ্গে ছিল ছোট বোনও।

পুলিশের আরও অনুমান, তারপর দ্রুত প্রমাণ লোপাট করতে দেহ বস্তায় ভরে বাইকে করে নিয়ে গিয়ে পুকুরে ফেলে দিয়ে আসে প্রেমিক। আলো ফোটার আগে কাজ সারতে ভোরবেলাতেই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় দেহ ভরা বস্তা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here