দ্য পিপল ডেস্ক – বৈচিত্রের দেশ ভারত । উত্তরে হিমালয়ের কোল থেকে দক্ষিণে ভারত মহাসাগর,পূর্বে জঙ্গলে ঢাকা পার্বত্যভূমি থেকে পশ্চিমে থর মরুভূমি । বিশ্বের আর কোন দেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এত বৈচিত্র দেখা যায় না । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈচিত্রগুলিও ৬টি ঋতুর সঙ্গে বদলে যায় ।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

সুবিশাল ভারতবর্ষের এই বৈচিত্রের টানেই প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক ভ্রমণে আসেন । বৈচিত্র সংস্কৃতি, সুস্বাদু খাবার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা সারা বছরই দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে ভিড় জমান । এমনকি ভারতে বর্ষাকালের সময়ও কিছু কিছু স্থানে পর্যটকেরা ভিড় জমায় ।    

ভ্রমনপিপাসুদের কথা মাথায় রেখেই ভারতে বর্ষাকালে ভ্রমণের জন্য সেরা গন্তব্য স্থানের তালিকার হদিশ দেওয়া হল । যাতে মন চাইলেই ছাটা মাথায় বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে দলবেঁধে বেরিয়ে পড়তে পারেন ।

মুন্নার

মুন্নারের কথা কে না শুনেছেন । শীতকালে মুন্নার ওয়ান স্টপ ডেস্টিনেশন হলেও বর্ষাকাল কিন্তু একেবারে ফাঁকা যায় না । দার্জিলিংয়ের পর দক্ষিণ ভারতের এই অংশে চায়ের চাষ হয় ।

স্থানটি বিশেষকরে ফটোগ্রাফারদের আকর্ষিত করে, যারা চাপাতা থেকে পড়ন্ত শিশিরের ছবি তুলতে পছন্দ করেন । কুয়াশা এবং কুয়াশাপূর্ণ পাহাড়,ঘন সবুজের গাছপালা সঙ্গে বৃষ্টির একটি আকর্ষণ তো রয়েছেই । অসময়ে ভ্রমণের জন্য এটি একটি উপযুক্ত স্থান।

কোদাইকানাল

কোদাইকানাল এর অনন্য প্রকৃতি, তার সৌন্দর্যের জন্যে একে বাস্তবতা থেকে দূরে একটি স্বপ্নদর্শী গন্তব্য মনে করা হয় । তামিলনাডুর একটি জনপ্রিয় হেলথ স্টেশন । রোমাঞ্চকর স্থান হিসেবে কোদাইকানাল পর্যটকদের পরিপূর্ণ করে তোলে ।

এটি একটি চূড়ান্ত গন্তব্যস্থান হতে পারে, বিশেষ করে আগস্ট মাসে, যখন প্রকৃতি সব দিক দিয়ে তার ডানা ছড়িয়ে দেয় । বর্ষার ভরা মরশুমে চারপাশের সমস্ত জলপ্রপাতের মুখ বন্ধ করে দেয় ।

লাহুল, স্পিতি, হিমাচল প্রদেশ

লাহুল-স্পিতি আসলে অনেকের কাছে ড্রিম ডেস্টিনেশন । সবচেয়ে কম জনবহুল স্থানগুলির মধ্যে এটি একটি । যাত্রাপথে হিমাচলের দৃষ্টিনন্দন পরিত্যক্ত প্রাসাদ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্কিইং,ইয়াক সাফারি এবং ট্রেকিং –এর জন্য বিখ্যাত ।

শীতকালে সাধারণত তুষারপাতের জেরে জায়গাটি বন্ধ থাকে । তবে জুলাই এবং আগস্ট মাসের জন্য একটি উপযুক্ত গন্তব্য স্থান, যখন তাপমাত্রা মাঝারি থাকে এবং প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন থাকে । যা পুষিয়ে দেবে শহুরে জীবনে অক্সিজেনের অভাব ।

বিকানের ,রাজস্থান

রাজস্থানের বিকানের আরেকটি গন্তব্যস্থান । বৃষ্টির মাসেই দর্শকদের স্বাগত জানায় । যদিও মে এবং জুন মাসে সেখানে অত্যাধিক তাপমাত্রা থাকে । তবে জুলাই ও আগস্ট বিকানের ভ্রমনের আদর্শ সময় । থাকার জন্য জুনাগড়, লালগড় এর নিকটতম স্থান ।

স্থানীয় হস্তশিল্পের সামগ্রীর জন্য বিকানের বিখ্যাত । চাইলে এখানে নীল মাটির পাত্র, রূপার গহনা, ব্রোঞ্জের জিনিসপত্র এবং সাংস্কৃতিক পোশাক কিনতে পারেন । কর্ণী মাতা মন্দির নামে এখানে আরো একটি স্থান আছে যেখানে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন ।

চেরাপুঞ্জি

নামটা শুনলে প্রথমেই পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের স্থানের কথা মাথায় আসে । যেখানে বছরভর বৃষ্টি হয় । বেশ কয়েক বছর আগেও চেরাপুঞ্জি পৃথিবীর সবচেয়ে সিক্ত স্থান বলে পরিচিত ছিল । তবে এখন পৃথিবীর সিক্ত স্থানগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ।

যারা বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার জায়গা । অঞ্চলটি কমলা রঙের ফুল, মধু এবং ঘন সবুজ গাছের ভিতর দিয়ে দুই পাটাতন বিশিষ্ট কাঠের সেতুগুলোর জন্যও সুপরিচিত । কংক্রিটের বৃষ্টিতে না ভিজে ঘন সবুজের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে ভেজা মাটির স্বাদ পেতে পর্যটকরা ভিড় জমান চেরাপুঞ্জিতে ।