।। আঁখি রায় ।।

মমতার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হচ্ছে সৌরভ চক্রবর্তীর। তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি সৌরভকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসে এক ঢিলে অনেক পাখি মারতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ দলের অনুগত সৈনিক। সেই কারণে দলনেত্রীর খুব কাছেরও। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ারে গোহারা হারেন তৃণমূল প্রার্থী। জয়ী হন বিজেপির জন বারলা।

দলের ফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের কাজে খুশি নন মুখ্যমন্ত্রী। সৌরভকে এই দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী করা হতে পারে।

মমতার মন্ত্রিসভায় বর্তমানে আলিপুরদুয়ারের কোনও প্রতিনিধি নেই। অথচ রাজনৈতিক দিক থেকে এই জেলার গুরুত্ব খুব কম নয়। উত্তরবঙ্গের গৌতম দেব মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ঠিকই, তবে নানা কারণে তাঁর ওপর খুশি নন মমতা। তাই সৌরভের গুরুত্ব বাড়ছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

সৌরভকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হলে, তাঁর জায়গায় কে হবেন জেলা সভাপতি? তৃণমূল সূত্রের খবর, দলনেত্রী সে ভাবনাও ভেবে নিয়েছেন।জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা তৃণমূলের কৃষক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি দুলাল দেবনাথ, প্রাক্তন দুই জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী ও চন্দন ভৌমিকের কাউকে বসানো হতে পারে ওই পদে। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল যুব সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের নামও রয়েছে বিবেচনায়। তবে অভিজ্ঞতার নিরিখে এগিয়ে রয়েছেন দুলালই।

মমতার নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের জেমস কুজুর। তিনি কুমারগ্রামের বিধায়ক ছিলেন। আদিবাসী কল্যাণ দফতরের পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের ফল খারাপ হয় এই এলাকায়। তার জেরে সরিয়ে দেওয়া হয় জেমসকে। তৃণমূলের কালচিনির বিধায়ক ছিলেন উইলসন চম্প্রমারি। কিছু দিন আগে তিনিও যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।

লোকসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফল খারাপ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে শুরু করেন দলনেত্রী। হারের কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেন সৌরভ নিজেও। তখনই বুঝতে পারেন, জনতার সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বের দূরত্বের কারণেই হেরেছেন দলীয় প্রার্থীরা। এর পরেই জনসংযোগের ওপর জোর দেন সৌরভ। চায়ের ঠেকে গিয়ে শুরু করেন ‘চায়ে পে চর্চা’।

সূত্রের খবর, সৌরভের এই মাটির মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টায় খুশি মমতা।তার জেরেই তাঁকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসতে ততপর হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জেলা তৃণমূলেরও একটি অংশের দাবি, সৌরভকে মন্ত্রী করা হলে আদতে লাভবান হবে দলই। জেলায় পোক্ত হবে দলের ভিত।

এখন দেখার, সৌরভের ভাগ্যে মন্ত্রীত্বের শিকে ছেঁড়ে কিনা!     

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here