দ্য পিপল ডেস্কঃ শুক্রবার ভারত সফরে আসতে চলেছেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০১৮ এর উহান সম্মেলনের পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে তামিলনাড়ুর মহাবলিপুরম।

ইতিমধ্যেই পল্লব রাজার আদলে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মহাবলিপুরমকে। সাতের শতকে দক্ষিণ ভারতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র ছিল মহাবলিপুরম। কাঞ্চিপুরমের পল্লব রাজা বোধিধর্মা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। চিনে তিনি ডামো নামেই পরিচিত ছিলেন। প্রথম ভারতীয় ধর্মীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে তিনিই চিনের ‘জেন ডান’-এ উপস্থিত হন। সেখানে জেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তন করেন তিনি। পরে চিনের হেনান শহরে বিখ্যাত শাওলিন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন বোধিধর্মা। ইতিহাসের পাতা উল্টে এবার সেই পল্লব রাজাদের মহাবলিপুরমেই বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং।

এদিন বিকেলেই চেন্নাই বিমানবন্দরে উপস্থিত হবেন রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। তাঁর আগেই মহাবলিপুরমের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন মহাবলিপুরমের ইউনেসকো তালিকাভুক্ত কিছু স্থাপত্য ঘুরে দেখবেন দুই রাষ্ট্রনায়ক।

সূত্রের খবর, এদিন জিনপিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সহ পলিটব্যুরোর সদস্যরা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং জাতীয় উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আগামী দিনের জন্য দুই দেশের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

অগাস্ট মাসে জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে ৩৭০ ও ৩৫ (এ) ধারা প্রত্যাহার করে নেয় মোদি সরকার। এরপর থেকেই জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারতের বিরোধিতা করতে শুরু করে পাকিস্তান। এমনকি ভারতের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রসংঘে সরব হন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। যদিও রাষ্ট্রসংঘে বেজিং ছাড়া আর কাউকে পাশে পায়নি ইসলামাবাদ । এমনকি কাশ্মীর নিয়ে দিল্লিকে তুলোধনা করতে ছাড়েনি বেজিংও।

সদ্য চিনা সফরে গিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বুধবার রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী। যদিও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শি জিনপিং।

সূত্রের খবর, এদিন চিনের সঙ্গে বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আলোচনায় নারাজ ভারত। শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে চায় ভারত। দিল্লি সূত্রের খবর, যেহেতু হংকংয়ের ঘটনা নিয়ে ভারত কোনও প্রশ্ন তোলেনি, তাই জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে চিনের সঙ্গে বৈঠক করতে নারাজ তাঁরা । যদিও জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গে আলোচনা হলে তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানিয়ে দেবে বলেছে দিল্লি।

অন্যদিকে এই মুহূর্তে মুষড়ে পড়েছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। তাই ইসলামাবাদের সঙ্গে আপাতত বাণিজ্যিক দুরত্ব তৈরি করেই ভারতের বাজারে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে বেজিং। জানা গেছে কম দামে উন্নতমানের ফাইভ জি ফোনের ব্যবসা নিয়েও আলোচনা করবে দুই দেশ। যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনও মৌ সাক্ষরিত হবে না এমনটাই সূত্রের খবর। উহানের সম্মেলনের মতই এদিনের বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি।

‘বন্ধু পাকিস্তান’ থেকে দুরত্ব বাড়িয়ে ভারত নিয়ে জিনপিংয়ের গলায় হঠাৎ সখ্যতার সুর কেন? তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা । একদিকে জম্মু-কাশ্মীর অন্যদিকে হংকং । দুই দেশের আলোচনার তালিকায় এই দুই  বিষয় থাকবে কিনা তা দেখার জন্য মুখিয়ে কূটনৈতিক মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here