শুভজিত চক্রবর্তী

তৃণমূল ছেড়ে দিচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী। যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। অন্তত এমনই জল্পনায় সরগরম গোটা দেশ। এ ব্যাপারে অবশ্য মিঠুন কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এক সময় কাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন রুপোলি পর্দা।বলিউডের পাশাপাশি চুটিয়ে অভিনয় করেছেন টলিউডে। ভালো সম্পর্ক ছিল প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে পরে তৃণমূলের হাত ধরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে টিকিট পেয়ে রাজ্যসভার সাংসদও হন।

পরে সারদা কাণ্ডে নাম জড়ায় তৃণমূলের এই তারকা নেতার। নেওয়া টাকা ফেরত দেন। রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলেন মিঠুন।

এর পর ক্রমশ তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে রাজ্যসভার এই প্রাক্তন সাংসদের। সরে যান রাজনীতি থেকে। সম্প্রতি তিনিই গিয়েছিলেন নাগপুরে আরএসএসের আঁতুড় ঘরে। সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের মর্মর মূর্তিতে মাল্যদানও করেন। আরএসএসের কার্যালয়ে স্বাগত জানানো হয় তাঁকে। দেওয়া হয় একটি ফটো ফ্রেমও। মুখে মাস্ক লাগিয়ে কেন তিনি আরএসএসের আঁতুড় ঘরে গিয়েছিলেন, সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করে।  

মিঠুন ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের খবর, তৃণমূলের কাজকর্মে ঘাসফুল শিবিরের প্রতি যারপরনাই বীতশ্রদ্ধ মিঠুন। তাই তিনি ক্রমশ ঝুঁকছিলেন বিজেপির দিকে। দ্বিতীয়বার বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় আসেন নরেন্দ্র মোদি।জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করে দেশে সুনাম কুড়োতে থাকেন। ৩৭০ ধারা রদের যৌক্তিকতা নিয়ে সওয়াল করে সমীহ আদায় করে নেন আন্তর্জাতিক মহলের। এর পরেই আর দেরি না করে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন মিঠুন।

যদিও এ ব্যাপারে মিঠুনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ অন্য একটি মহলের মতে, এখনই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই অন্যায়-অবিচারের নায়কের। ভবিষ্যতে দিলেও দিতে পারেন।

আরএসএসের অনুষ্ঠানে গিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। আজীবন জাতীয় কংগ্রেসের মন্ত্রে দীক্ষিত প্রণব কীভাবে আরএসএসের অনুষ্ঠানে গেলেন সে প্রশ্নও ওঠে।

এবার মিঠুনও আরএসএসের দফতরে যাওয়ায় তাঁর বিজেপি-ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে এল বলেই অনুমাণ রাজনৈতিক মহলের।

প্রদীপ জ্বালানোর আগে কী তবে সলতে পাকানো শুরু করলেন মিঠুন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here