।। গৌতম ভট্টাচার্য ।।

রাজ্যের তিন উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় চমক দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির। প্রার্থী হতে পারেন মাফুজা খাতুন, প্রেমচাঁদ ঝাঁ। খড়গপুর কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকায় ঘোরাফেরা করছে ভারতী ষোঘের নামও। তবে মুকুল ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বোধহয় তাঁর কপালে ছিঁড়ছে না খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের টিকিট। সেক্ষেত্রে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ প্রেমচাঁদকেই প্রার্থী করতে পারে পদ্মশিবির।

খড়গপুর সদরের বিধায়ক ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করে দল। তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী মানস ভুঁইঞাকে হারিয়ে দিল্লি চলে যান দিলীপ। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই ২৫শে নভেম্বর হবে উপনির্বাচন। শুধু এটি নয়, রাজ্যের আরও দুই কেন্দ্রেও নির্বাচন হবে ওই দিনই।

এই বিধানসভার উপনির্বাচনে জিততে মরিয়া দুই ফুলই।তিন আসনে জিতে পদ্মশিবিরের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে চাইছে তৃণমূল। আর তিন কেন্দ্রে জিতে তৃণমূলের হতাশা আরও বাড়াতে মরিয়া বিজেপি। সেই কারণেই বহু হিসেব-নিকেশ করেই চলছে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ।

খড়গপুর সদর কেন্দ্রে অবাঙালি ভোটারই বেশি। সেকথা মাথায় রেখেই তৃণমূল প্রার্থী করতে চলেছে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হেরে যান তিনি। তাঁকে পুনর্বাসন দেওয়ার একটা দায়ের পাশাপাশি অবাঙালি ভোটারদের বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। সেই কারণেই হেরে যাওয়া সত্ত্বেও দীনেশই খড়গপুরে হতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের বাজি।

আর রেলশহরে দলের দাপট ধরে রাখতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিজেপি নেতৃত্বও। দিলীপের ছেড়ে যাওয়া আসনে তাঁরা প্রার্থী করতে চলেছেন প্রেমচাঁদ ঝাঁকে। অবাঙালি প্রেমচাঁদ দিলীপের অনুগামী। দিলীপ যখন বিধায়ক ছিলেন, তাঁর কেন্দ্রের যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনা করতেন প্রেমচাঁদ। তাই পুরো বিধানসভা কেন্দ্রটি হাতের তালুর মতো চেনা তাঁর। সেই কারণেই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে প্রেমচাঁদই।

এই কেন্দ্রে বিজেপির বাজি হতে পারেন ভারতী ঘোষও। জেলার পুলিশ সুপার থাকায় রেলশহরের নাড়িনক্ষত্র চেনেন তিনি। তাই তাঁকেও প্রার্থী করতে পারে দল। তবে বিজেপিতে তিনি মুকুল ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। সেই কারণে খানিকটা ব্যাকফুটে তিনি। তাছাড়া, পুলিশ সুপার থাকাকালীন বিরোধীদের ওপর তিনি স্টিমরোলার চালিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। দক্ষ এই প্রাক্তন আইপিএসকে প্রার্থী করলে দলের নিচুতলায় ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে পারে। সেই কারণেও তাঁকে প্রার্থী করতে রাজি নন বিজেপিরই একটা বড় অংশ। সেক্ষেত্রে প্রেমচাঁদের ভাগ্যেই ছিঁড়তে চলেছে উপনির্বাচনের টিকিটের শিকে।

এদিকে, কালিয়াগঞ্জে কংগ্রেস প্রয়াত বিধায়কের মেয়েকেই প্রার্থী করছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির বাজি হতে পারেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাফুজা। সিপিএম থেকে বিজেপিতে আসা মাফুজা বাগ্মীতার জেরে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের। সেই কারণেই ওই কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

করিমপুরে বিজেপির বাজি হতে পারেন জয়প্রকাশ মজুমদার।তাঁকে প্রার্থী করেও চমক দিতে পারেন পদ্ম নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here