দ্য পিপল ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার পৈলানের সভা থেকে সেই ‘ভাইপো’ শব্দেই বিজেপিকে পালটা আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে পরে আগে ভাইপোর সঙ্গে লড়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অমিত শাহকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দক্ষিণ ২৪ পরগণার ওপর ওদের খুব লোভ আছে। খালি দিদি আর ভাতিজা। দিদিকে পরে লড়বি, আগে ভাতিজাকে লড়। চ্যালেঞ্জ করছি অমিত শাহকে, আগে অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে লড়ো। কী কী করেছ তোমায় বলতে হবে। তোমার ছেলেও কোরাপশনের চার্জ থেকে রেহাই পাবে না।’

অমিত শাহর নাম না করে মমতা বলেন, “অভিষেকের নাম নেওয়ার আগে তোমার ছেলের কথা বলো, সেও আমার ভাইপো।” পাশাপাশি রইল চ্যালেঞ্জ, “অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়ে দেখাও।” এমনকি সভার শেষে অমিত শাহ চ্যালেঞ্জ করছি তোমার ছেলেকে রাস্তায় নামাও।

মমতা বলেন, তাঁর খারাপ লাগে, তাঁর জন্য অভিষেককে কথা শুনতে হয় বলে। মমতা বললেন, তিনি কি অভিষেককে ‘ডেপুটি চিফ মিনিস্টার’ করে দিয়েছেন নাকি, যে, তাঁর (মমতার) এত সমালোচনা করা হয়? তিনি তো অভিষেককে রাজ্য়সভার সাংসদ হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। নেননি অভিষেক। অভিষেক বরং মানুষের দ্বারা নির্বাচিত হতে চেয়েছিলেন। তাই-ই হয়েছে। তিনি লোকসভার সাংসদ হয়েছেন। মমতা অভিষেকের জন্য আলাদা এমন কী করেছেন? জাতীয় সড়কে অভিষেকের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অভিষেককে মারার চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন। গভীর মমতার সঙ্গে মমতা বলেন, ‘ও (অভিষেক) আজও একটা চোখে দেখতে পায় না। অভিষেকের চোখের মণিটাই উপড়ে চলে আসে, কতটা কষ্ট হয়!’

এদিন সাগর-সভায় বলে এসেছেন বিজেপি আমলে সরস্বতী পুজো, দুর্গাপুজো করা যাবে নিশ্চিন্তে। বার্তাটা যেন ছিল, এই পুজোগুলি মমতা সরস্বতী পুজো করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। মমতা জবাবে বললেন, সরস্বতী পুজো করতে দেয় না বলছে, সরস্বতী সম্পর্কে কিচ্ছু জানে না (এই সময়ে সরস্বতীর মন্ত্রপাঠও শুরু করেন মমতা) । দুর্গাপুজা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তাহলে ক্লাবগুলিকে ৫০ হাজার টাকা কেন দেওয়া হচ্ছে?

‘উত্তরপ্রদেশে তিনজন নাবালিকাকে নির্যাতন হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চুপ কেন ? দিল্লিতে এনআরসির নামে কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে? স্বৈরাচারী, বর্বরোচিত রাজনৈতিক দল বিজেপি।শুধু মানুষের মধ্যে হিংসা ছড়ায়। বলছে বাংলা দখল করবে, আগে দিল্লি সামলাও। কৃষকদের কীভাবে মেরেছে, শুধু ট্র্যাক্টর নিয়ে গেছিল। কৃষকদের সামলাতে পারে না, আবার বাংলা দখল করবে’।

পৈলানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিজেপির একজন নেতা, তিনি নামেই দুনম্বর। আমি নাম বলবো না। তিনি গিয়ে বলেছেন, আরে গঙ্গাসাগর কেয়া হ্যায়। ইতনা খারাব ইতনা খারাব? আমি বলি, এই মূর্তিমান কোথায় ছিলে গো? গঙ্গাসাগর কী ছিল? একটা থাকার জায়গাও ছিল না। লজ্জা করে না? একটা পয়সা দিয়েছো কোনওদিনও? বলছে, গঙ্গাসাগরকে এই করে দেব সেই করে দেব। ছাই করবে তোমরা’।