বুলটি পাল, নামখানা : ধৈর্য্য ও সহ্য করার ক্ষমতা এদের রয়েছে অবাধ। কিন্তু করে কি লাভ, চোখের সামনে লুটে নিচ্ছে লুটেরারাজ। এদের শুধু দেখা আর সোনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।


২০ মে আম্ফানে ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল সুন্দরবন । আয়লা, বুলবুল, আম্ফানের মত একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিরবে সহ্য করে যায় সুন্দরবনবাসী। কোনও প্রতিবাদ নেই।


কিন্তু কত সহ্য করবে, কতই বা ধৈর্য ধরবেন..নাগাড়ে বলে চলেন শিবরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হরেকৃষ্ণ করণ। বয়স ৮৫ দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।


বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুটি প্রাণীর বাস। বাড়ি বলতে রাস্তার পাশে প্লাস্টিক, এটা সেটা দিয়ে বানানো মাথা গোঁজার ঠাঁই। কখনও খাবার জোটে, কখনও উপোস করেই দিন কাটে। সে এক করুণ অবস্থা।


চোখের সামনে বুলবুল হয়ে গেল। বুলবুলের ঘা না শুকোতে শুকোতে আম্ফান এসে হাজির। কি আর করা যাবে, দু’জনে থাকার যে বসতবাড়িটুকু ছিল তা আজ আরো ছোট হয়ে গেছে।


বড় করার আর উপায় নেই। সেই বয়স অনেকদিন আগেই পেরিয়ে এসেছি। একটা সময় ছিল সংসারের জন্য অনেক খেটেছি। এখন আর পারি না, করুণ মুখে বলে চলেন বৃদ্ধ।


বৃদ্ধ বয়সে দু’জনকে দেখার কেউ নেই। ছেলে অসুখ-বিসুখে হলে সাহায্য করে। এই প্রসঙ্গে হরেকৃষ্ণবাবু বলেন, আমার একখানা পা ভ্যান রয়েছে। আয় হতো একসময়।


কিন্তু এই লকডাউনের বাজারে ২৫ টাকা ইনকাম করতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হচ্ছে। এই অসুবিধার দিনে একখানা ত্রিপল হলে বড়ই ভালো হত। এই বৃষ্টি বাদলার দিনে বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে জল জমে থাকে।


তিনি আরো জানান, রেশনের দুটাকার চাল ধরে নিয়ে আসি। স্বামী-স্ত্রীর দুটো রেশন কার্ড এবং ছোট ছেলের কার্ড, মোট তিনটে কার্ডে চাল পাই। তাতেই আমাদের কোনও রকম চলে যায়।


বুলবুলের সময় এখানকার পঞ্চায়েত সদস্য বলেছিলেন একখানা ত্রিপল দেবে। কিন্তু দেয়নি।


আশা করেছিলাম এবারে হয়তো পাব। কিন্তু না আজও পাইনি। এই আশায় আজও বসে আছি।