দ্য পিপল ডেস্ক- সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিরীখে এক নম্বর স্থানে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটান । উত্তরে সুবিশাল হিমালয় পর্বতশ্রেনি থাকায় উঁচু পর্বতমালা,ঘন বনজঙ্গল,সবুজ ভ্যালিতে ভরপুর ভূটানের প্রকৃতি । দেশজুড়ে সবুজের আধিক্য থাকায় বছরভর বৃষ্টিপাতের কোনো অভাব নেই ।

প্রকৃতির অকৃত্রিম মমতা এবং সবুজে ঘেরা বনানী পর্যটকদের আকর্ষণের মূল কারণ । ভূটানের ‘ল্যাণ্ড অব দ্য পিসফুল থাণ্ডার ড্রাগনস’ শান্তিময় ভ্রমণের স্বর্গরাজ্য হিসেবে বিশ্বের দরবারে চিহ্নিত করা হয়েছে ।

ভূটানই পৃথিবীর একমাত্র ধর্মরাষ্ট্র যেখানে সকল আইনকেই ঈশ্বরের আইন বলে ধরে নেওয়া হয় । ভূটানের মোহময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ভ্রমণপিপাসুরা কিছুতেই উপেক্ষা করতে পারেন না ।

দেশজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ভ্রমণের একাধিক ডেস্টিনেশন । এক নজরে দেখে নেওয়া যাক-

রাজধানী থিম্পু

প্রত্যেকটি রাষ্ট্রেই তার রাজধানীকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে উল্লেখযোগ্য করে গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন । থিম্পুর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি । থিম্পুতেই ভূটানের সবথেকে আকর্ষণীয় এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের অবস্থান । থিম্পু নদীর তীরে সিলভান ভ্যালিতে অবস্থিত এথনিক ভূটানিজ কলা,স্থাপত্যশিল্প,সংস্কৃতির পীঠস্থান । শহরটির ইউনিক ফ্লেভার আপনাকে বারবার এখানে আসতে  বাধ্য করবে।

থিম্পুর দর্শণীয় স্থান

১৬২৭ সালে তৈরি থিম্পু ভ্যালির গেটওয়ের নাম সিমতোখা জং । থিম্পুর সবথেকে পুরনো এই জঙয়ে আছে রিগনে স্কুল ফর জঙঘা এ্যাণ্ড মোনাষ্টিক ষ্টাডিস । ফ্রেশকো এবং স্লেট কার্ভিংস সিমতোখার অন্যতম মূল আকর্ষণ ।

থিম্পু জং – (ফোট্রেস অব দ্য গ্লোরিয়াস রিলিজিয়ন)- ১৬৬১ সালে তৈরি থিম্পু জং হল শহরের প্রাণকেন্দ্র । এখানে সরকারি ডিপার্টমেণ্ট,দ্যা ন্যাশনাল এসেম্বলি,রাজার থ্রোন রুম এবং সেন্ট্রাল মনাষ্টিক বডির গ্রীস্মকালীন হেডকোয়ার্টাস অবস্থিত ।

মেমোরিয়াল কর্টেন – ভূটানের তৃতীয় রাজা জিগমে দরজি ওয়াঙচুকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৭৪ সালে স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি হয়েছিল । এর ভেতরের বিভিন্ন পেইণ্টিং এবং স্ট্যাচু বৌদ্ধ দর্শণের প্রতিবিম্ব ।

থিম্পুর উইকএণ্ড মার্কেট – থিম্পুর মনোরম এবং নিরিবিলি রাস্তায় হেঁটে বেড়ানোর মজাই আলাদা । ভ্রমণকারীদের কেউ বিশেষ করে উইকএণ্ড মার্কেটে যেতে ভূলবেন না।

থিম্পু পুনাখা – থিম্পু শহরে থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে দোচুলা পাস অতিক্রম করে চলে যান পুনাখা । আকাশ পরিস্কার থাকলে ৩০৫০ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট দোচুলা পাস থেকে হিমালয়ের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারবেন । পুনাখা ভূটানের সবথেকে উর্বর উপত্যকা । আরো দেখতে পাবেন ফো ছু এবং মো ছু নদী । সেই সঙ্গে পুনাখা জং ।

এছাড়াও রয়েছে ন্যাশনাল লাইব্রেরি,হ্যাণ্ডিক্রাফট এম্পোরিয়াম,পেন্টিং স্কুল এবং ট্রাডিশনাল মেডিক্যাল ইনষ্টিটিউট। কয়েক পা বাড়ালেই যেগুলো দেখে আসতে পারেন।

এবার বেড়িয়ে পড়ুন থিম্পুর বাইরে

পারো

ভুটান ভ্রমণ মানেই পারো মাস্ট । হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট শহর পারোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভোলার মত নয় । ভুটানের শহরটি জুড়ে ছড়িয়ে আছে নানান গল্পকথা । বসন্ত ঋতুতে পারোর রুপ হয়ে ওঠে অতুলনীয় । গেলেই প্রেমে পড়ে যাবেন । পারো জং,ন্যাশনাল মিউজিয়াম তো আছেই, তবে পারোর মূল আকর্ষণ টাইগার্স নেষ্ট ।

টাইগার্স নেস্ট একটি মনাষ্ট্রি, পারো থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে একটি ক্লিফের উপর অবস্থিত । হেঁটে ওঠার পথটিও খুব সুন্দর ।ভূটান ট্যুরিজম দর্শনার্থীদের গলা ভেজাতে এখানে একটি সুন্দর কফি হাউজ তৈরি করে দিয়েছে । পারোতে অবশ্য থাকার ব্যবস্থা কম। ভুটান ট্যুরিজম নিয়ন্ত্রিত একটি হোটেল অবশ্য আছে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই আগে থেকে এই হোটেলে বুকিং দিয়ে রাখতে হবে ।

ভুটানের আধ্যাত্মিক হৃদয়ভূমি বুমথাং

ভূটানের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জং,মন্দির এবং মহল বুমথাং-এ অবস্থিত । এখানে এলে দেখতে পাবেন ওয়াংগডিচোলিং প্যালেস,জাম্বে লাখাং মন্দির,এবং সবথেকে বড় ভূটানিজ মন্দির জাকার ।

কয়েক পা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন হট স্প্রিং এরিয়ায় । যাত্রাপথ কষ্টদায়ক হলেও উরা,চুমে,ট্যাং এবং বুমথাং উপত্যকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আপনাকে মোহিত করে তুলবে । এই পথ আপনার ক্লান্তিময় জার্নিকে অনায়াসেই সুখকর করে তুলতে পারে । এলাকায় ব্লু শিপ,মাস্ক ডিয়ার,হিমালয়ান ভাল্লুক চোখে পড়তে পারে । সমস্ত বুমথাংয়ে একমাত্র জাকারেই ভালো রেস্তরাঁ পাবেন।

কোথায় থাকবেন ?

থিম্পুতে হোটেলের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও থাকার সমস্যা হয় না । পাইনউড হোটেল বা রিভারভিউ হোটেলে থাকতে পারবেন । বেশিরভাগ হোটেলই পাবেন আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা । অধিকাংশ হোটেলই পাবে ভূটানের সাবেকি ঐতিহ্যের ছোঁয়া ।

খাওয়াদাওয়া

ভুটানে নিরামিষ খাবারের প্রচলন বেশি । ডর্টসি বা গরুর দুধের পনির এবং এমা ডর্টসি বা গলানো পনিরে রান্না করা লাল মরিচ এখানকার অত্যন্ত পছন্দের খাবার ।

কেনাকাটা

দর্শনীয় স্থানের মত এখানে কেনাকাটার স্থানেরও অভাব নেই। হ্যান্ডিক্রাফট এম্পোরিয়াম থেকে  মাস্ক,প্রেয়ার হুইল,ডেকোরেটিভ মোটিভ,সিল্ক এবং উলের জামাকাপড় ভুটানি ঐতিহ্যের অংশ ।

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে বিমানে পারো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে চলে যান । পারো ঘুরে মিনিবাস করে থিম্পু পৌঁছে যাবেন । থিম্পু থেকে ভূটানের অন্যান্য শহরে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে ।

রেলপথে সরাসরি ভুটানে যাওয়ার কোনো উপায় নেই । নিউ আলিপুরদুয়ার স্টেশন থেকে ভাড়া করা ট্যাক্সি ,প্রাইভেট গাড়ি, বাসে করে পৌঁছে যান ৬০ কিলোমিটার দূরে ফুন্টশিলিং ।

কখন যাবেন

ভূটান যাবার সবথেকে ভালো সময় হলো বছরের অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস। কারণ এ সময়টায় আকাশ পরিস্কার থাকে এবং পাহাড়,নদী,বনাঞ্চল বেশ ভালো পরিস্কার দেখা যায়। পাশাপাশি আবহাওয়াও ভালো থাকে এবং এই সময়টাতেই ভূটানের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here