অব্যাহত গণ ইস্তফা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভূমিকায় উঠছে প্রশ্ন

0
57

দ্য পিপল ডেস্কঃ রাজ্য জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে গণ ইস্তফার ধূম। এসএসকেএম হাসপাতালে সব বিভাগ থেকে মোট ২০০ জন চিকিৎসক পদত্যাগ করলেন। অন্যদিকে এনআরএস-ও ১০৮ জন চিকিৎসকের গণ ইস্তফার সিদ্ধান্ত। ন্যাশানাল মেডিকেল কলেজে ৩৫ জন চিকিৎসকের পদত্যাগ। কলকাতা মেডিকেল কলেজে ৬৫ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিলেন শুক্রবার।

সাগর দত্তের পর এবার ‘আরজিকর’ এবং ‘উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ’ হাসাপাতালে গণইস্তফার পথ বেছে নিয়েছেন চিকিৎসকেরা । অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই সিউরিতে ৬৭ জন চিকিৎসক ইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন। তবে শুক্রবার সকালে সিদ্ধান্ত বদল করেন তারা। কালো ব্যাজ পড়ে কাজ শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা । এমন চিত্র দেখা গেছেআলিপুরদুয়ার মেডিকেল কলেজেও।            

রাজ্যজুড়ে গণ ইস্তফা  

মঙ্গলবার ‘এনআরএস’ হাসপাতাল কাণ্ডের জেরে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় ডাক্তারদের ইস্তফার ঘটনা উঠে আসতে দেখা যায়।

সাগর দত্ত হাসপাতাল থেকে ইস্তফার পর্ব শুরু হলেও, গণ ইস্তফার রেশ রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের মত।

ইতিমধ্যে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, কলকাতার ‘আরজিকর’ হাসপাতালে মোট ৯৭ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন।

এর পাশাপাশি উত্তর বঙ্গ মেডিকেল কলেজে ১৭ জন চিকিৎসক ইস্তফা দিয়েছেন।

আলিপুর এবং সিউড়ি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ইস্তফার ডাক দিলেও অবশেষে সিদ্ধান্ত বদল করেন তারা।

মূর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের কথা মাথায় রেখে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কাজে যোগ দেন চিকিৎসকেরা।

এছাড়াও একের পর এক রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে প্রতিবাদের ছবি উঠে আসছে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ, ত্রিপুরার আগরতলা মেডিকেল কলেজও একই চিত্র উঠে আসছে।                

উল্লেখ্য, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত হাসপাতালের চিত্রটা একেবারেই আলদা। একমাত্র বারাসাত মেডিকেল কলেজে কোনও রোগী এসে ফিরে যাচ্ছেন না। একেবারেই স্বাভাবিক রয়েছে এই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা।

দেশ জুড়ে চিকিৎসকদের মিছিল

রাজ্য থেকে এই ঘটনার সুত্রপাত হলেও, বৃহস্পতিবারের পর থেকে এই ঘটনার রেশ ছড়িয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। দিল্লির ‘এইমস’-এ চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদ জানিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে কালো ব্যাজ পড়ে মাথায় হেলমেট পড়ে কাজ করছেন।

শুধু মাত্র ‘এইমস’-ই নয়, নয়াদিল্লি, ভোপাল, নাগপুর, রায়পুর, হায়দ্রাবাদ, কর্নাটকে, পাটনা মেডিকেল কলেজে সিনিয়র ডাক্তাররা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হয়েছেন।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী হার্ষবর্ধন -কে চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষার দাবি জানিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে ‘এইমস’ -এর তরফ থেকে।

এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদাসীনতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসাপাতালে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রঙ লাগাতে চাইছেন। এর জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে। যদিও এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে।

শুক্রবার আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে অবিলম্বে আজ সন্ধ্যে ৭ টার মধ্যে আলোচনায় বসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে। নাহলে আগামীকাল থেকে ফের বন্ধ থাকবে চিকিৎসা পরিষেবা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here