দ্য পিপল ডেস্কঃ ২০১৪ র ২ অক্টোবর। এই দিনেই ঘটেছিল খাগড়গড়কাণ্ড।

বর্ধমানের ততকালীন পুলিশ সুপার এসএইচ মির্জা সেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ।

২০১৯এর ২অক্টোবর নারদ কান্ডে জড়িত সেই মির্জা রয়েছেন গরাদে। 

২অক্টোবর খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণ

পূর্ব বর্ধমান শহর লাগোয়া খাগড়াগড়ের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল জাতির জনকের জন্মদিনেই।

বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে উঠেছিল গোটা তল্লাট। মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। পশুবলি নয়, দুই জঙ্গির তাজা রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল খাগড়াগড়। যে বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই নীচের তলায় ছিল তৃণমূলের পার্টি অফিস।

অভিযোগ, তৃণমূলকে বাঁচাতে পথে নামেন ততকালীন জেলা পুলিশ সুপার মির্জা স্বয়ং।

বিস্ফোরণ স্থল থেকে পাওয়া প্রচুর বিস্ফোরক তড়িঘডি দামোদরের পাড়ে নিস্ক্রিয় করা হয়।

জঙ্গিদের জমা করা প্রচুর টাকাও উধাও হয়ে যায়। পার্টি অফিসের গায়ে লেখা তৃণমূল শব্দটাও রাতের অন্ধকারে মুছে দেয় কে বা কারা।

তদন্তের মোড় ঘোরাতে মির্জাই ঘটনাটিকে মামুলি বলে দেগে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

বিষয়টিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তেমন গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ।

খাগড়াগড়কাণ্ডের সময় এ রাজ্যে বিজেপির পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন সিদ্ধার্থনাথ সিং।

তিনিই দাবি করেছিলেন এনআইএ তদন্তের। যদিও তার প্রয়োজন নেই বলেই নাকি দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

শেষমেশ ততকালীন মোদি সরকার খাগড়াগড়কাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব দেয় এনআইয়ের হাতে।

এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং এনআইয়ের প্রধান, এনএসজি প্রধান ও আইবি প্রধান সহ একাধিক হেভিওয়েট কর্তাব্যক্তি চলে আসেন খাগড়াগড়ে। শুরু হয় তদন্ত।

জানা যায়, খাগড়াগড়ের এই বাড়িতে বসেই কষা হচ্ছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যার ছক। জামাতের জঙ্গিরা সেই কারণেই উচ্চ শক্তি সম্পন্ন গ্রেনেড এবং রকেট লঞ্চার মজুত করেছিল। 

খাগড়াগড়ের লিঙ্ক খুঁজতে গিয়ে এনআইএ নিগনের পাশে শিমূলিয়া মাদ্রাসার খোঁজ মেলে।

এখান থেকেই যাবতীয় কাজকর্মের তথ্য মেলে। উদ্ধার হয়েছিল একটি ন্যানো গাড়িও। এনআইএ এখানেই থেমে থাকেনি।

শিমূলিয়ার লিঙ্ক ধরেই স্টার সিনেমার পাশে একটি বাড়ি থেকে রকেট লঞ্চার, হ্যান্ড গ্রেনেড সহ বিস্ফোরক দ্রব্যের খোঁজ মেলে। উদ্ধারে নেমে পড়ে এনএসজি।

সমস্ত বিস্ফোরক নিয়ে দামোদরের চরে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে সেই বিস্ফোরকগুলিকে নিস্ক্রিয় করে। 

সেদিন নদীর চর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা কেঁপে উঠেছিল। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ত বড় কোনো নাশকতার ছক কষার জন্য বিস্ফোরক জমা করছিল জেএমবি।

এনআইএ-র হেফাজতে ২ মহিলা ও শিশু

খাগড়াগড় কান্ডে দুই মহিলা ও শিশুকে হেফাজতে নিয়েছিল এনআইএ। শিশুটি নাবালক হওয়ায় তাকে হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। 

এই মডিউল খুঁজতে গিয়ে বীরভূম, মূর্শিদাবাদ, মালদহ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জেএমবির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে উঠে আসে এনআইএ তদন্তে।

২০১৪ থেকে ২০১৯ এই ৫ বছর হায়দ্রবাদ, কেরালা, আসাম সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে লিঙ্ক ম্যানদের গ্রেফতার করা হচ্ছিল। তারপরের ঘটনা ইতিহাস। 

খাগড়াগড় কাণ্ডে বেশ কয়েকজনের সাজা হয়েছিল। আরও কয়েকজন চাঁই অধরা। তাদের খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশিও।

খাগড়াগড় কাণ্ডে মুখ পোড়ে এলাকাবাসীরবেশ কয়েকবছর এলাকার নাম শুনেই নাক সিঁটকোতেন আশপাশের লোকজন।

এলাকায় মেয়ের বিয়ে দিতে চাননি কেউ। খাগড়াগড়ের মেয়েকেও বউ করে ঘরে নিয়ে যাননি কেউ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যবাসীর মন থেকে ফিকে হয়েছে খাগড়াগড়কাণ্ডের স্মৃতি।

এখন অবশ্য খাগড়াগড়ের নাম শুনলে আর নাক সিঁটকোন না কেউ। তবে সেদিনের সেই স্মৃতি আজও অমলিন খাগড়াগড়বাসীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here