দ্য পিপল ডেস্কঃ গোটা বিশ্বের নজর কাড়তে এবার কাশ্মীরের মসজিদে হামলার ছক কষছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই মহম্মদ। সেই মতো স্বাধীনতা দিবসের আগেই চালানো হতে পারে হামলা। সূত্র মারফত এ খবর পেয়ে কাশ্মীরের বিভিন্ন মসজিদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন সেনা কর্তৃপক্ষ।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ করে ভারত। তার পর থেকে কাশ্মীরে অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে পাক মদত পুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। সেই তালিকার ওপরের দিকেই রয়েছে জইশ, লস্কর-ই-তৈবার মতো কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনগুলি।তাদের মদত দিচ্ছে আইএসআই।

সূত্রের খবর, আইএসআই আন্তর্জাতিক জঙ্গির তকমা পাওয়া মাসুদ আজহারের সংগঠনকে জানিয়েছে, ক্ষতির কথা চিন্তা না করে যতটা সম্ভব বড় ধরনের হামলা চালানো হোক ভারতে। গোয়েন্দাদের অনুমান, কাশ্মীরের বিভিন্ন মসজিদগুলিতে নমাজ আদায় করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। সেখানে নাশকতা চালানো হলে প্রাণ যাবে একসঙ্গে অনেক মানুষের। আর তখনই বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে যে, ভারত কাশ্মীরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের পর ভারত যে দমন-পীড়ন নীতি নিয়েছে, তাও প্রমাণ করা সহজ হবে।

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের পর স্বভাবতই খুশি নয় পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তো হুঁশিয়ারি দিয়েই রেখেছেন, পুলওয়ামার মতো কোনও বড় ঘটনা ঘটতে পারে। উপমহাদেশে মুসলিমদের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম তাস খেলেই নিজের তখত পোক্ত করতে মরিয়া ইমরান।

গোয়েন্দারা জেনেছেন, কাশ্মীরে মসজিদে হামলার ছক মাসুদের ভাই আবদুল রউফের মস্তিষ্কপ্রসূত। এই পরিকল্পনা মতো জইশের সাত জঙ্গি রাজৌরি বা পুঞ্চ সেক্টর দিয়ে ভারতে ঢুকে থাকতে পারে। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিনই নাশকতা চালিয়ে কাজ হাসিল করতে চাইছে তারা।

মাসুদের চেয়েও ভয়ঙ্কর রউফ। ধুরন্ধর এই জঙ্গিই ১৯৯৯ সালে আইসি-৮১৪ বিমান অপহরণের মূল পান্ডা। ভারতের ইতিহাসে এই বিমান অপহরণের ঘটনা কন্দহর কাণ্ড নামে পরিচিত। সূত্রের খবর, এই রউফই সম্প্রতি রাওয়ালপিণ্ডিতে গিয়ে আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে। সেখানেই তৈরি হয়ে যায় কাশ্মীরে নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট। জঙ্গিরা কীভাবে ভারতে ঢুকবে, কীভাবেই বা পঞ্জাব প্রদেশের ভাওয়ালপুরে ফিরবে, সবই ছবি এঁকে আধিকারিকদের বুঝিয়ে দিয়েছে রউফ। মসজিদে হামলার ছক বানচাল হলে অনন্তনাগের হাইওয়েতে হামলা চালানোর বিকল্প ছকও কষে রেখেছে জঙ্গিরা।

জঙ্গিদের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নিরাপত্তা আধিকারিকরাও। উপত্যকা জুড়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার। এক নিরাপত্তা আধিকারিক বলেন, ৩৭০ ধারা রদ নিয়ে ঘরে-বাইরে কার্যত কোণঠাসা ইমরান খানের সরকার। তাই কাশ্মীরে নাশকতা হলে তারা কিছুটা অ্যাডভান্টেজ পাবে বলেও ধারণা পাক গোয়েন্দাদের। সেই কারণেই ভারতে হামলার ছক জঙ্গিদের।