দ্য পিপল ডেস্কঃ আত্মহত্যা করেছেন বলিউডের উঠতি অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত। মানসিক অবসাদের কারণেই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার মত এত বড় সিদ্ধান্তে অবাক হননি দেশের এমন কোনও মানুষ নেই।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এমন তাজা প্রাণ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না আট থেকে আশি। সেই সঙ্গে প্রশ্নও উঠছে কি এমন হয়েছিল যে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হল? অর্থ, যশ, পরিচিতি, সাফল্য সবই তো ছিল।

সেলিব্রেটি (যাঁরা সুশান্তের কাজ করেছেন বা করেননি) থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ব্য়াখ্যা দিয়েছেন, বক্তব্য রেখেছেন সোশাল মিডিয়ায়।

দেশ ছাড়িয়ে এই প্রশ্ন আর উদ্বেগের ঢেউ পৌঁছেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও। সুশান্ত সিং রাজপুতের অকাল মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসানও।

নিজের ফেসবুক পেজে জয়া আহসান লিখেছেন, “প্লিজ এই দুঃসময়ে আপনার প্রিয়জনের পাশে দাঁড়ান, কাউকে একা ফিল করতে দেবেন না। অভিনেতা সুশান্ত সিংহ রাজপুতের আত্মহত্যা এটাই হয়তো বলে দিয়ে গেলো।


একজন শিল্পীর চলে যাওয়া সত্যিই মেনে নিতে খুব কষ্ট হয়। তার চলে যাবার প্রকৃত কারণ হয়তো পরে জানা যাবে কিন্তু মানসিক অবসাদ সত্যিই এই যুগের সবচেয়ে কঠিন সমস্যা এবং এর সাথে লড়াই করাটাও।

নাম, যশ, খ্যাতি হলেই সেই মানুষটা জীবনে সুখী এই ধারণাটাও সত্যিই ভুল। ২০১৫ সালে WHO প্রকাশিত তথ্যে জানা যাচ্ছে প্রতিবছর প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ ডিপ্রেশনের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

তাই কেউ মনের কথা বলতে চাইলে তাকে সময় দিন। কেউ মনোবিদের কাছে গেলে “তুই পাগলের ডাক্তার দেখাস” এই ধরণের কথা বলে তার মনোবল ভেঙে দেবেন না বরং তাকে উৎসাহিত করুন।

আমরা প্রত্যেকেই হয়তো এক একটা সমস্যায় থাকি। ঘটনাক্রমে সেগুলো হয়তো না চাইতেও ঘটে যায়। সেগুলোই নিজের মধ্যেই হয়তো চেপে রাখি ভাবি এর থেকে বেরোনোর হয়তো আর কোনো সমাধান নেই।

এগুলোই আমাদের তিলে তিলে শেষ করে দেয়। এগুলো বরং আমরা কাছের মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারি। অন্তত কিছুটা হালকা হওয়াই যায়। লড়াই করার রসদ খুঁজে পাওয়া যায়। কারোর মন খারাপ হয়েছে শুনলে প্লিজ তাকে একা ছেড়ে দেবেন না।

যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেষ্টা করুন। অন্তত এই কঠিন সময়ে তো বটেই। সত্যিই মানসিক অবসাদকে এবার সিরিয়াসলি নেবার সময় এসেছে। কথা হোক। আর আমরাও সবাই সবার পাশে দাঁড়িয়ে একে অন্যের যেন মনের জোড় বাড়াতে সাহায্য করি।

আর যাই হোক, আমরা আমাদের প্রিয়জনকে মানসিক অবসাদে চলে যেতে দেবোনা। এই হোক অঙ্গীকার।”