আন্দোলনে অস্থির ইরাক

দ্য পিপল ডেস্কঃ দেশে ক্রমাগত বেড়ে চলা দুর্নীতি, বেকারত্বের সমস্যা এবং সরকারের থেকে সাহায্য না পাওয়ার প্রতিবাদে এবার সোচ্চার হল ইরাকের যুবসমাজ। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে মুখর হাজারো ইরাকি। আন্দোলনে অস্থির ইরাক ।

আন্দোলনকারীদের রুখতে লাঠি চার্জ করতে শুরু করে পুলিশ। ব্যবহার করা কাঁদানে গ্যাসও। ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক জন। আহত অনেকেই।

সবেমাত্র এক বছর পার করেছে ইরাকের নতুন সরকার। আদিল আবদুল মাহাদি প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই ইরাক জুড়ে একের পর এক সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছেন ইরাকের মানুষ।

বুধবার থেকেই বাগদাদের রাস্তা বন্ধ করতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হয় বাগদাদ বন্দর। পুলিশের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, ইরাকে তাঁদের ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তা ফেরত না পাওয়া অবধি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

বিষয়টিকে অতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ইরাকের সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে আমেরিকার দুতাবাস। ক্রমশ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমনটাই আশঙ্কা করছে আমেরিকা

ইরাকে অতি দ্রুত রাজনৈতিক বদলের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করেছেন প্রায় দশ হাজারের বেশী ইরাকি। তাঁদের দাবী দেশের বেকারত্ব, ক্রমাগত বেআইনি কাজ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। আন্দোলনে অস্থির ইরাক ।

সপ্তাহের শুরুতেই শিয়ার একটি ইরানিয়ান কনসুলেটে বিক্ষোভ দেখায় আন্দোলনকারীরা। এমনকি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিন জন আন্দোলনকারী। বুধবার আন্দোলন চলাকালীন আততায়ীদের হাতে মৃত্যু হয় ১৮ জনের। তবে আততায়ীরা পুলিশ কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

বুধবার ট্রাইগ্রিস নদীর ৪ নম্বর ব্রিজের ওপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় বন্ধ হয়ে পরে বাকি তিনটি ব্রিজের যান চলাচল। কার্যত অচল হয়ে যায় গোটা শহর।

ইতিমধ্যেই বাগদাদের তাহির স্কোয়ারে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে ট্রাইগ্রিস নদীর পুর্ব দিক দিয়ে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করছে আর এক দল আন্দোলনকারী দল। মূলত সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলিকে লক্ষ্য করেই আন্দোলন চালাতে চাইছে তাঁরা।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা মাট্রেয়ি ব্রিজ পার করে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এখনও অবধি আহত হয়েছেন ২৯ জন। যদিও ঘটনায় একজন নিহত বলেই দাবী করছেন আন্দোলনকারীরা।

গত একমাস ধরে চলা এই বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ২৭৩ জন ইরাকি। বুধবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৭। ইরাকি নেতাদের তরফে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের দাবী মেনে নেওয়া হবে। তবে সেটা সময় সাপেক্ষ। যদিও আন্দোলনে অনড় লক্ষাধিক ইরাকের নাগরিক।

২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সাদ্দাম হুসেনকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় ইরাকের মানুষ। কিন্তু নিত্যদিনের প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে তাঁরা ইরাকের শিয়া দলগুলির ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে।

গত দু’বছর আগে আইসিস নিয়ে সরকারের বৃহত্তম পদক্ষেপ বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেয় দেশকে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হওয়ার কারণে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয় সরকার। বুধবারের পর তা চালু করা হলেও তা ভীষণ সীমিত।

পরিস্থিতি কবে শান্ত হয়? তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here