||মণিশঙ্কর দেবনাথ||

বিরোধী দলের কোনও কোনও বিধায়ক, নেতারা যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। কিছুদিন আগে ঝাঁকেঝাঁকে শিল্পীরাও নাম লিখিয়েছেন। তাদের অনেকেই দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন।কেউ কেউ আবার গুরুত্ব না পেয়ে মুখ গোমড়া করে টিভি,কাগজে বিবৃতি দিচ্ছেন। আর এদিকে ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে জেতার স্বপ্নে মশগুল বিজেপি নেতারা এখন তৃণমূলকে চাপে ফেলার জন্য প্রায়দিনই সরগরম করে রাখছেন গোটা রাজ্যকে।

সারদা-রোজভ্যালি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অতিসক্রিয়তায় রীতিমতো কোণঠাসা তৃণমূল সুপ্রিমো। যেন তেন প্রকারেণ রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করে কড়া বার্তা দিতে চাইছে তাঁকে। কিন্তু এই লড়াইয়ে কোনওভাবেই দেখা যাচ্ছে না বিজেপিতে সাদরে ডেকে নেওয়া বেশ কিছু আইপিএসকে। যাঁদের দলে নেওয়ার সময় গুরুত্ব দেওয়ার কথা ঘটা করেই জানিয়েছিল দল।

সবমিলিয়ে পুজোর আগেই আগামী বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। যে রণকৌশলের অনেকটা জুড়েই রয়েছে রাজশক্তির ব্যবহার। সিবিআই যখন প্রাক্তন পুলিশ কমিশনারকে জালে তুলতে অতি সক্রিয়, তখন গোটা বিজেপিতেই একরকম ব্রাত্য আইপিএসরা। ভারতী ঘোষের মতো বিতর্কিত আইপিএস যা মাঝে মাঝে ফোঁস করছেন। কিন্তু সিবিআইয়ের প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার সুজিত ঘোষ, প্রাক্তন ডিজি রুমেশ কুমার হাণ্ডার মতো দাপুটে নেতারা আক্ষরিক অর্থেই হালে পানি পাচ্ছেন না ।

রাজীব কুমারের খোঁজ পেতে মরীয়া হয়ে তাঁর হাল হদিশ পেতে সম্ভাব্য সব পথই অবলম্বন করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।এই সময়ে প্রাক্তন আইপিএস অফিসাররা তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সিবিআইকে সাহায্য করতে পারতেন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ হাফ নেতারা যখন দলে নিজেদের জাহির করছেন,তখন একেবারে নিশ্চুপ করে রাখা হয়েছে তাদের, যে রহস্য এখনও পরিষ্কার নয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিজেপিতে গোপনে গোপনে একধরণের খেলা চলছে, যে খেলার জন্য ব্রাত্যই রয়ে গিয়েছেন একসময়ের দাপুটে আইপিএসরা। সভায় ভিড় বাড়ালেও তাঁরা এখন ঠুঁটো জগন্নাথ।      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here