দ্য পিপলডেস্ক- দুর্গাপুজোর বিজয়া দশমীর সঙ্গে অচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে এর । পোশাকি নাম ‘ইন্ডিয়ান রোলার’। বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘কোরাসিয়াস বেনঘালেনসিস’।

বাঙালির আদরের নাম নীলকণ্ঠ পাখি । প্রচলিত বিশ্বাস, বিজয়া দশমীতে এই পাখি দেখতে পাওয়া খুবই শুভ ।  

নীলকন্ঠের দর্শণ শুভ কেন?

কথিত আছে, রাবণবধের আগে নীলকন্ঠ পাখির দর্শন পেয়েছিলেন শ্রীরামচন্দ্র ।

আবার অনেকের মতে, নীলকণ্ঠ পাখি পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছিল রামচন্দ্র ও তাঁর বাহিনীকে । সেই থেকে তার দর্শন পাওয়া শুভ বলে ধরা হয় ।

ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে নীলকন্ঠের দেখা মেলে । ছোটো আকারের,বাহারি রঙের পাখিটি মূলত ঘাসজমি ও ঝোপঝাড়ের বাসিন্দা ।

বাংলার ঘাসজমিতে এই পাখির একটি প্রজাতিকে দেখে কার্ল লিনেয়াস এর নামকরণ করেছিলেন । এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘কর্ভাস বেঙ্গালেনসিস’।

বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে এই একরত্তি পাখি গভীর ভাবে জড়িয়ে । আর তার বাঙালি নামের মধ্যেই স্বয়ং মহাদেব বিরাজমান ।

২৬ থেকে ২৭ সেন্টিমিটার লম্বা এই পাখির দেহ । লেজ ও ডানায় উজ্জ্বল নীল রঙের জৌলুস মুগ্ধ করার মতো ।

তবে ভারতে নীলকণ্ঠের যে প্রজাতির দেখা মেলে, তার গলার কাছের অংশটি হাল্কা বাদামি । বরং, ইউরোপে এই পাখির যে প্রজাতি দেখা যায়, তাদের গলা ও বুকের অংশ নীল ।

এশিয়ার বিস্তৃত অংশে পাওয়া যায় নীলকণ্ঠ পাখি । ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যেও এদের বিস্তার রয়েছে ।

মূল খাদ্য ঘাসজমির পোকামাকড় । ঘাসফড়িং, ঝিঝিপোকা থেকে ছোট সাপ, বাদ যায় না কিছুই ।

মূলত মার্চ থেকে জুন এদের প্রজননের সময় । গাছের কোটরে এরা বাসা বানায় ।

এক বারে তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে স্ত্রী নীলকণ্ঠ । ১৭ থেকে ১৯ দিন পর ডিম ফুটে বেরিয়ে আসে ছানা ।

নাম নীলকন্ঠ হলেও এদের ডাক কিন্তু মিষ্টি নয়, বরং কর্কশ ।

ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা নীলকণ্ঠকে ওড়িশা, কর্নাটক এবং তেলঙ্গনার স্টেট বার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ।

নীলকণ্ঠ পাখির সঙ্গে পৌরাণিক আখ্যানের সম্পর্কও গভীর 

পুরাণে কথিত আছে, এই পাখি নাকি উড়ে গিয়ে কৈলাসে মহাদেবকে জানায়, সপরিবারে মা দুর্গা ফিরছেন ।

এই প্রাচীন রীতি পালন করতে গিয়ে প্রতি বছর নির্বিচারে মারা পড়ত অগণিত নীলকণ্ঠ ।

তাদের নৃশংস ভাবে ধরে বন্দি করে রাখা হত । বিজয়া দশমীতে দশভুজাকে বিসর্জনের আগে খাঁচা খুলে উড়িয়ে দেওয়া হত আকাশে ।

সেখানেই দেখা দিত বিপত্তি । ধরে-বেঁধে রাখা আহত পাখি উড়তে পারত না । কিছু দূর যাওয়ার পরেই তাকে আক্রমণ করত কাকের দল ।

তাদের আক্রমণ থেকে রেহাই পেত না ছোট আকারের এই পাখি । কয়েক বছর আগে নীলকণ্ঠ পাখি বন্দি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে । ফলে বন্ধ হয়েছে নীলকণ্ঠ পাখির অকালনিধন ।

মূলত বনেদি বাড়ির পুজোতেই নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রেওয়াজ ছিল । এখন সে সব বাড়িতে নীলকণ্ঠ পাখির মূর্তি বানানো হয়।

তাই দিয়েই পালিত হয় সাবেক রীতি । শুরু হয় আরও একটি বছরের অপেক্ষা ।

শারদ আকাশে বিষাদ মন চলে যায় নীলকণ্ঠের খোঁজে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here