||নয়ন রায়||

“বাই দ্য কন্ট্রাক্টর, ফর দ্য কন্ট্রাক্টর, অফ দ্য কন্ট্রাক্টর”

লাইনটি মনে পড়ে বামপন্থীদের? মনে করুন তো, কার উক্তি? না, না, লেনিন বা মার্কসের নয়। প্রয়াত বাম নেতা বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর । নয়ের দশকের শেষে বর্ধমান টাউন হলে কৃষি বিপণন দফতরের এক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই উক্তি করেছিলেন বিনয়বাবু। 

তাঁর বক্তব্যে তোলপাড় হয়েছিল তৎকালীন বঙ্গরাজনীতি। খোদ মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বলেছিলেন, “উনি আছেন কেন?” নয়ের দশকের শেষের দিকে বিনয় চৌধুরীর এই উক্তিতে অতি বড় বামপন্থীর গায়েও ফোস্কা পড়েছিল বলে মনে হয়। ‘বার্নল’ লাগিয়ে ফোস্কা সারানোর চেষ্টাও হয়তো করেছিলেন কেউ কেউ। তবে ওষুধ কাজ করেনি। সেদিন বিনয়বাবু যে খুব একটা ভুল বলেননি, পরবর্তীকালে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন বামপন্থীরা।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে মেদ জমেছিল বাম শরীরে। তাই সরকারি নানা কাজ যে ঠিকাদার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল, তা বুঝতে পারেননি অনেক বামপন্থীই। অথবা বাস্তব সত্যটা স্বীকার করার দুঃসাহস দেখাননি। এই ঘোর সত্যটা স্বীকার করার মতো বুকের পাটা আছে কজন রাজনীতিবিদের, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

বিনয়বাবুর বক্তব্যের সাক্ষী ছিলাম তরুণ সাংবাদিক হিসেবে। সেদিন এটাও দেখেছিলাম, হাতেগোণা কয়েকজন সাংবাদিক কীভাবে বিনয়বাবুর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল আদ্যন্ত বামপন্থী মানুষটাকে। এটা যে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি চূড়ান্ত অপমান, সেটা তখন বুঝিনি, আজ বুঝেছি। 

১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৯। এতগুলো বছরেও ঠিকঠাক মূল্যায়ন হল না বিনয়বাবুর। বামপন্থীরা তাঁকে প্রায় ভুলেই গিয়েছেন। তাঁর কথা বিকৃত করে নাম কিনেছেন যে সব সাংবাদিক, তাঁরাও আজ গুছিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। কেবল অন্তরালেই রয়ে গেলেন বিনয়বাবু।

অথচ আদ্যন্ত কমিউনিস্ট বিনয়বাবু সব সময় যাতায়াত করতেন লোকাল ট্রেনে।জীবন যাপন করতেন নিষ্ঠাবান কমিউনিস্টের মতোই। বিনয়বাবু সম্পর্কে বামপন্থীরা কেন এত উদাসীন, তা বোধগম্য হল না। তবে এটুকু বুঝেছি, “ভালো মন্দ যাহাই ঘটুক, সত্যেরে লও সহজে”, কবির এই বাণীর সফল রূপায়ন করেছিলেন বিনয়বাবু।  

যখন বেঁচেছিলেন, তখন উপকার করেছিলেন বহু মানুষের। মৃত্যুর পরেও উপকার করে চলেছেন। তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিনিয়ত তাঁকে নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রীরা।অথচ এতদিনেও তাঁর মূল্যায়ন করে উঠতে পারল না বিনয়বাবুর দল সিপিএম।বামপন্থীদের কাছে এ বড় লজ্জার!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here