দ্য পিপল ডেস্কঃ সম্প্রীতির বার্তা দিতে ৩৩ পল্লীর মণ্ডপে দুর্গাপুজোয় বাজানো হয়েছিল আজান। আর তা নিয়ে খাস কলকাতার বুকে উঠেছে বিতর্কের ঢেউ। অথচ এই একই পথে হেঁটে উদারতার বাণী প্রচার করে শিরোনামে ত্রিপুরার এক প্রত্যন্ত গ্রাম।

এনআরসি কাঁটায় জর্জরিত অসম। তালিকা অনুযায়ী কে কোথায় যাবেন, আর কেই বা থাকবেন তা নিয়ে সব সময় বুক দুরু আছেই প্রতিবেশী রাজ্য়গুলির বাসিন্দাদেরও। তার মধ্যে এসেছে দুর্গাপুজো।

আসলে ধর্ম যার যার, কিন্তু মা সবার, সবাই মায়ের সন্তান। তাই হিন্দু-মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই সঙ্গে দুর্গাপুজো করে নয়া সম্প্রীতির নজির দেখা গেল ত্রিপুরায়। এবার নয়, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই কাজ করে আসছেন ত্রিপুরার মানুডি এলাকার বাসিন্দারা।

পুজো কমিটির সভাপতি রহিজ মিঞা জানান, দুর্গাপুজো আসলে একটি মিলনমেলা। এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক বাতাবরণ নেই। পুজোর কদিন সন্ধ্যার পরে উত্সব যেন আলাদা মেজাজ নেয়। মহিলারা এক এক দিন এক এক রকমের অনুষ্ঠান করেন। কে হিন্দু আর কে মুসলিম কোনো আলাদা ব্যাপার নেই।

সম্পাদক তপন দত্ত জানান, কমিটি শুধু পুজো করে না, মিলনক্ষেত্র তৈরি করে। এখানকার মানুষের মধ্যে একাত্মার সম্পর্ক। ধর্ম কাউকে আলাদা করতে পারে না। মায়ের কাছে প্রার্থনা কোনো রকম সমস্যা যেন ছুঁতে না পারে।

উল্লেখ্য, দুর্গাপুজোয় জাঁকজমকের বেশিরভাগ কেড়ে নেয় শহর কলকাতা। কিন্তু সেই উত্সবের শহরে চলতি বছরে দু-দুটো বিতর্ক ছুঁয়েছে দুর্গাপুজো। আজান বিতর্কের পর বিতর্ক হয়েছে ভবানীপুরে স্বর্ণ মন্দিরের আদলে তৈরি প্যান্ডেল নিয়ে।

পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে জানিয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করে কলকাতা থেকে ফিরে গেছেন পাঞ্জাবি গায়ক গুরুদাস মান।

অসমের পর এনআরসি আতঙ্কে কাঁপছে ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গও। তারই মাঝে ত্রিপুরার এই পুজো যেন কার্যতই গোটা দেশের কাছে অখণ্ডতার বার্তা দেয়। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here