||আঁখি রায়||

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নর্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্বিতীয়বার সরকার গড়েই তিনি নেমে পড়েছেন মাঠে। মোদির সাফল্য দেখে আশায় বুক বাঁধছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

২০২১ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তাকেই পাখির চোখ করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। পদ্ম শিবির কেন্দ্রের কুর্সিতে বসতেই দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। কংগ্রেস, তৃণমূল মায় বামেদেরও অনেকেই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।

তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা বিজেপিতে গিয়েছিলেন, সপ্তাহ ঘোরার আগেই তাঁদের বেশ কয়েকজন ঘরে ফেরেন। বিজেপির কাজকর্ম মুগ্ধ করতে পারেনি। তাই ফিরলাম তৃণমূলে, দাবি দলছুটদের।

অন্য কোনও দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে অবশ্য এই প্রবণতা দেখা যায়নি। সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে জল্পনা ছড়ায়। যদিও এ ব্যাপারে কংগ্রেসের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সিন্ধিয়া নিজেও মুখ খোলেননি। প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা মাধব রাও সিদ্ধিয়ার ছেলে জ্যোতিরাদিত্য নিজেও কংগ্রেস করেন বরাবর।

তবে সদ্য লোকসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পরে তিনিও ক্রমশঃ ঝুঁকতে থাকেন বিজেপির দিকে।মধ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ না পেলে তিনি দল ছাড়তে পারেন বলেও একটি সূত্রের খবর।

ওই সূত্র অনুযায়ী, বিজেপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন জ্যোতিরাদিত্য। কী থেকে জ্যোতিরাদিত্যের বিজেপি-যোগের জল্পনা? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেটি হল সম্প্রতি জ্যোতিরাদিত্যের করা একটি মন্তব্য।

তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে কংগ্রেসের সব থেকে জরুরি হল অন্তর্দর্শন। দলের পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও উন্নতি করা জরুরি। এটাই সময়ের দাবি। রাহুল গান্ধির ঘনিষ্ঠ জ্যোতিরাদিত্যের এহেন মন্তব্যে বিড়ম্বনায় পড়েছে দল। জ্যোতিরাদিত্য যে তলে তলে পদ্ম শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, সে খবর গিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কানেও।

কারণ দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের ব্যাপারে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তকে খোলাখুলি সমর্থন করেছিলেন তিনি। অনুগামী মারফত দলীয় নেতৃত্বের কাছেও নাকি জ্যোতিরাদিত্য জানিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতির পদ না পেলে ছেড়ে দেবেন দল।

এখন দেখার, মাধব-পুত্রকে ধরে রাখতে কী দাওয়াই প্রয়োগ করে কংগ্রেস!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here