দ্য পিপল ডেস্কঃ ভাষা দিবসের মঞ্চে তাঁর মুখেও শোনা গেল, ‘খেলা হবে’। দক্ষিণ কলকাতায় ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে ভোটের আঁচ বাড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর হুঁঙ্কার ‘‘একুশে একটাই খেলা হবে, আমি থাকব গোলরক্ষক। দেখি কে জেতে। ভোটের পর দেখা যাবে কে জেতে, কে হারে।‘’

ভাষা দিবসের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন কোনও রকম ‘ধমকানি-চমকানি’তে তিনি ভয় পান না। তাঁর কথায়, ‘বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া অত সহজ নয়। আপনারা জেল-টেল দেখিয়ে ভয় দেখাবেন না। আমরা এসব দেখে অভ্যস্ত। ধমকানি-চমকানিতে ভয় পাইনা।’ এরপরেই মমতার ঘোষণা, ‘একুশেই চ্যালেঞ্জ হবে। একুশেই খেলা হবে। আমি গোল রক্ষক।’

এদিনই কয়লাকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও শ্যালিকাকে নোটিস দিয়েছে সিবিআই। সেই প্রসঙ্গ নিয়ে মুখ না খুললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইঙ্গতপূর্ণ মন্তব্য, ‘জেলের ভয় আমাদের দেখাবেন না। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, মাথা নত করব না। জেলে থাকলেও বঙ্গবন্ধুর মতো ডাক দেব।”

ভাষাদিবসের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাথমিক ভাবে সুর চড়ান বাংলা নামের সপক্ষে। বারংবার বলেন, বাংলা ভাষা তাঁর অনুপ্রেরণা। তাঁর “কথায় ভাষাটা বাংলা। আমায় শিখিয়েছে বাঘের বাচ্চার মতো লড়বি।” ক্রমেই চড়তে থাকে পর্দা। তিনি বলেন, “বন্দুকের সামনে লড়াই করেছি। ওই সব নেংটি ইঁদুর দেখিয়ে লাভ নেই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘রাজ্যের নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। ৪ বছর হয়ে গেল আজও কেন্দ্র অনুমোদন দেয়নি। একবারও ভাবল না ভাষার নামের সাথে রাজ্যের নাম জুড়ে আছে। বাংলাদেশ একটি দেশ, বাংলা তো রাজ্য।‘’কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ ফের একবার শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়েন, ‘চিরকাল বাংলার প্রতি বঞ্চনা, বিমাতৃসুলভ আচরণ করে। নেতাজি থেকে রবীন্দ্রনাথ, কাউকে রেয়াত করা হয়নি। বাংলা মানেই খুব খারাপ, সবসময় এমন একটা চিন্তাধারা। দিল্লির নেতারা বলছেন বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে চায়’।