“আমি যদি পরগাছা হয়ে জীবন কাটাই তাহলে আমার ব্যক্তিত্ব কোনদিন তৈরী হবে না”

0
480
||লীনা গঙ্গোপাধ্যায়||

৮ ই মার্চ। দিনটি পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে। সময় বদলেছে। বদলেছে মানসিকতাও। আগের থেকে অনেকটাই আধুনিক হয়েছি আমরাও। তবে আধুনিকতার সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। আমার কাছে আধুনিকতা বলতে বোঝায় একজন মানুষের মুক্তির বোধ। স্বাধীনতার বোধ। তবে সেটা কখনই স্বেচ্ছাচারিতা নয়। চাই শিক্ষা এবং স্বনির্ভরতা।

হ্যাঁ মেয়েরা অনেকাংশে বদলেছেন। ঘর ছেড়ে তারা এখন বাইরের জগতে বেরোচ্ছেন। একদশকে অনেকটাই বদলেছেন মেয়েরা। আবার এটাও ঠিক সামগ্রিকভাবে বদল তো একদিনে হয়না। আর সেটা হয়ওনি। এই সামগ্রিক বদলের জন্যই প্রত্যেক মুহুর্তে একটা সচেতনতা দরকার। হয়ত নারী দিবসের এই বাৎসরিক উদযাপনের মধ্য দিয়ে সেই চেতনা ফিরে আসার একটা ধাক্কা তৈরী হয়। অন্তত যেসব নারীরা ভাবেননি, আসলে নারী স্বাধীনতা আসলে কী? তারা হয়ত নতুন করে ভাবতে শুরু করেন।

নজর ঘোরালেই চোখে পড়ে নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা। তবে সেটা যে শুধু গ্রামে গঞ্জে তা নয়। শহরেও নির্যাতিত হতে হয় নারীদের। পার্থক্য শুধু নির্যাতনের রকমফেরে। পাশাপাশি এই নির্যাতন কিন্তু যেসব মেয়েরা চাকরী করে বা যারা চাকরী করেন না তা দেখে কিন্তু হয় না। একটা স্পষ্ট কথা হল, যতদিন মেয়েরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসাবে থাকবে ততদিন ধরে নিতে হবে প্রথম শ্রেণীর নাগরিকদের নারীদের উপর নির্যাতনের রেখাপাত চলবে। সেই বদলটাই এখন জরুরী।

সেই বদল সম্ভব সচেতনতা থেকে। বা নারীদের নিজের অধিকার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা থেকে। তাকে জানতে হবে আমি কতটা সুরক্ষা পেতে পারি সমাজের কাছ থেকে বা প্রশাসনের কাছ থেকে। জানতে হবে, আমার কী অধিকার আছে। অনেক মেয়েই আছেন যারা জানেন না বা জানতে চাননা তাদের কী কী অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি কী কী সুযোগ সুবিধা রয়েছে তাদের। অধিকার সম্পর্কে এই প্রাথমিক বোধটুকু থাকলেই কিন্তু তারা বুঝতে পারবেন তাদের উপর অত্যাচার হলে তারা কোথায় সেই অভিযোগ জানাতে যাবেন।

অনেকেই আছে যারা সামাজিক লজ্জার ভয়ে তাদের উপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানাতে চাননা প্রশানসনকে। সেটা শিকল ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে নিজেদেরই। তবে সেটা আগের থেকে অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের কাছে এখন অনেক রিপোর্ট আসে। থানাতেও অভিযোগ নথিভুক্ত হয়। আগে কিন্তু এটা হত না। তাই বলা যেতে পারে সচেতনতা কিছুটা হলেও হয়েছে। মুখ বুঝে এখন মেয়েরা মার খেতে চাইছেন না। এটা স্পষ্ট।

প্রশাসনের তরফে নারী সুরক্ষা নিয়েও অনেক স্কিম আছে। কমিউনিকেশনের অভাবের জন্য অনেকসময় সেটা প্রচারের আলোয় আসেনা। সেই বিষয়টা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

আরও একটা জিনিস আমি ভীষণভাবে বলতে চাই। প্রত্যেক মেয়েরই স্বনির্ভর হওয়া জরুরী। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা যতক্ষণ না আসবে ততদিন কোনভাবেই স্বাধীনতা বোধ তৈরী হবে না। আমি যদি পরগাছা হয়ে জীবন কাটাই, বা আমাকে যদি কারোর কাছে হাত পাততে হয়- তাহলে আমার ব্যক্তিত্বই তৈরী হবে না কোনদিন। তাই আমার মনে হয় আজকের সমাজে দাঁড়িয়ে একটা মেয়ের রোজগার করাটা খুব দরকার। এটা নিজের সম্মান রক্ষার্থেও বটে।

আজকের দিনে আমি একটাই বার্তা দিতে চাই, প্রত্যেকটি মেয়ে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচুক। তার জন্য চাই শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। এর কোনো বিকল্প নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here