” সমালোচনা নয়, মহিলার হাত ধরতে হবে মহিলাকেই “

0
289

।। অগ্নিমিত্রা পল (ফ্যাশন ডিজাইনার) ।।

আমরা অনেক দূর এগিয়েছি । কিন্তু, অনেকটা পথ চলা বাকি আছে এখনও । শহরে যে পরিমাণ empowerment হয়েছে । তার কোনও অংশেই হয়নি গ্রাম বা মফস্বলগুলোয় । আমরা যারা প্রিভিলেজড তাঁদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায় আন্ডার প্রিভিলেজডদের ক্ষেত্রে । যাঁদের সেই শিক্ষাটাই নেই । যাঁদের সেই সচেতনতা নেই – আমার মনে হয় তাঁদের সেই শিক্ষা পাওয়া দরকার । তাঁদের বোঝানো দরকার নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা ঠিক কতটা জরুরী ।

শিক্ষিত হওয়ার পর আর্থিক দিক দিয়ে স্বনির্ভর হলে তবেই পরিবারে তার মর্যাদাটা বাড়ে ।  সে তখন ‘ডিসিশন মেকার’ হতে পারে । নিজের ক্ষেত্রে, নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে, পরিবারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন । পরিবারের সকলের দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি । কোন স্কুলে পড়বে তাঁর সন্তান? সেটাও ঠিক করতে পারেন তাঁর মা । আমার মনে হয়, যাঁরা স্বামীর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন, তাঁদের মর্যাদা খুব বেশী থাকে না । শুধু তাই নয়, একদিন উইমেন্স ডে সেলিব্রেট করে বাড়ির মহিলাদের পেটাব, মাকে পেটাব, বউকে পেটাব, বোনকে পেটাব –এই  অবস্থার পরিবর্তন দরকার । সুতরাং, প্রত্যেকটি মহিলাকে শিক্ষা পেতেই হবে এবং আর্থিক দিক দিয়েও স্বনির্ভর হতে হবে ।

আবার অনেক সময় এমনও হয়- শিক্ষিত মহিলা, আর্থিক দিক দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন । অথচ, পরিবারে তাকে কেউ কদর করে না । সেক্ষেত্রে নিজের সম্মান আদায় করে নিতে হবে । বাপের বাড়িতে থাকলে বাপ-মার কথা মেনে চলা কিংবা শ্বশুরবাড়িতে থাকলে সবার মন যুগিয়ে চলাটা আর করা যাবে না । দুর্ব্যবহার কারোর সাথে না করে বরং নিজের ব্যক্তিত্ব তৈরি করতে হবে । ফলে, সম্মান করবে সকলেই ।

তার সঙ্গে প্রথাগত ধ্যানধারণা ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে । দাদা, বৌদিরা মেনে নেবে না । শাশুড়ি কথা বলবেন না ।তা বলে মিনমিন করার কিছু নেই । নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে । আস্তে কথা বল, পা ফাঁক করে বসবে না, সন্ধ্যে ৬টার পর বাড়ি ঢুকে পড়বে কারণ তুমি মেয়ে । এসবের দিন শেষ । তুমি মেয়ে-তোমার জন্য পুতুল । প্লেনটা ছেলের জন্য-এসব আর চলবে না । ছেলের জন্য পুতুলও হতে পারে, রান্নাবাটির সেটও হতে পারে । আবার ছেলের জন্য প্লেন, মেয়েদের জন্য ফাইটার প্লেনও হতে পারে । কয়েকদিন আগেই এক মহিলা তিনি ভারতীয় এয়ার ফোর্সে জয়েন করলেন । মেয়েদের পক্ষে কিছু করা অসম্ভব নয়, Nothing in this world .

একজন মহিলাই একজন মহিলার সমালোচনা করেন বেশী । সমালোচনা করে তাই ফালতু সময় নষ্ট করার সময় আর নেই । প্রত্যেক মহিলার হাত ধরতে হবে আরও এক মহিলাকে । যেমন- আমি আমার রান্নার মাসীর হাত ধরলাম, আমার ড্রাইভারের বউয়ের হাত ধরলাম, তার ছেলের হাত ধরলাম-এইভাবেই এগিয়ে যাব সবাই একসাথে ।

এনজিও-রা যথেষ্ট সচেতন নারী অধিকারের বিষয়ে । আইন প্রণয়ন করা হয়েছে মহিলাদের জন্যই । কিন্তু, একজন মহিলা দিনের পর দিন মার খেয়েও থানায় অভিযোগ জানান না । তাঁকে ভাবতে হয়, সেই তো স্বামীর কাছেই আসতে হবে । ছেলে-মেয়েরা দেখছে বাবা মাকে মারছে । তবুও, তাঁরা চুপ । এমন করলে হবে না । নিজেকেই সেই পদক্ষেপ নিতে হবে । সাহসটা দেখাতে হবে ।

সবশেষে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সকলকে বার্তা – মেয়েদের শিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে । শিক্ষিত হয়ে ঘরে বসে রইলাম । কোনও কাজ করছি না । আমি এটাকে সমর্থন করি না । তাতে দেশও চলবে না । আমাদের সঙ্গে পুরুষদের কোনও ঝগড়া নেই । শুধু কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে চাই । তাহলে দেশের জিডিপি গ্রোথ হবে আরও ভালো । আর যে মহিলারা প্রিভিলেজড তাঁরা অবশ্যই আন্ডার প্রিভিলেজডদের পাশে দাঁড়ান । তবেই সব নারীর উন্নতি হবে ।           

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here