“শিক্ষার ক্ষেত্রেও দরকার প্রতিযোগিতার”

0
126

।। দীপক দাস ।।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ

রাজ্যজুড়ে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা থেকে দূরে থাকতে মানুষের কি করা দরকার?

এই মুহূর্তে হিংসার রাজনীতি চলছে সারা রাজ্যে। এর আগে মানুষ এবং রাজনীতির সহাবস্থান ছিল। এখন তা হিংসায় পরিণত হয়েছে। এই বিষয়ে মানুষের প্রতিবাদ জানানো উচিত। সমস্ত রাজনৈতিক দলের ব্যাক্তিগত মতাদর্শ রয়েছে। সেই মতাদর্শকে সামনে রেখে সমাজের উন্নতির দিকে নজর রাখা দরকার।  

রাজ্যে শিক্ষার মানের উন্নতির জন্য কি করা দরকার?

প্রাথমিক এবং প্রাক প্রাথমিক স্তরে

সদ্য এক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে সরকারী স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমতে শুরু করেছে। এই মুহুর্তে সরকারী স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ লক্ষের থেকে কমে গিয়েছে। এর কারণ, অনেকেই বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। না হলে অনেকেই পড়া ছেড়ে দিচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ারা সরকারী স্কুলে ভর্তি না হওয়ার পিছনে রয়েছে পরিকাঠামোর অভাব।

বেশিরভাগ সরকারী স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লাসরুম নেই। সঠিক পরিচালনা করার ব্যবস্থাপনাও নেই। পুরো বিষয়টিই রাজনীতির মধ্যে চাপা পড়ে গিয়েছে। কারোর কোনও নজরদারি নেই। স্কুলগুলির মধ্যে যেরকম স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা হয়, সেরকমই প্রতিযোগিতা শিক্ষার ক্ষেত্রেও থাকা দরকার।

এবার যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির দিকে তাকানো যায় তাহলে কিন্তু সেই একই হাল চোখে পড়বে।

গ্রাম বা মফঃস্বলের কলেজ গুলিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক নেই। কলেজে শিক্ষার মান ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তাই বিপুল সংখ্যক পড়ুয়ারা এখন ডিসট্যান্ট এডুকেশনের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু রেগুলার এবং ডিসট্যান্ট এডুকেশন এক নয়। তাই রেগুলার এডুকেশনের মান বাড়িয়ে পড়ুয়াদের কলেজমুখী করা দরকার।

রাজ্যে প্রায় ৮০০ এর বেশি বিএড এবং ডিএড কলেজ রয়েছে । সেখানে আবার ছাত্রের সংখ্যা কম। প্রায় ৮০ শতাংশ বিএড এবং ডিএড কলেজগুলিতে ক্লাস হয়না।

শিক্ষার মেরুদন্ড শিক্ষকরা। তাঁদের ট্রেনিং এর জন্য প্রত্যেকটি কলেজে নুন্যতম ১৬ জন শিক্ষকের প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে দেখা যাচ্ছে সব মিলিয়ে শিক্ষকের সংখ্যা ৪ থেকে ৫ জন। তাঁদের মধ্যে কিছু জন রয়েছেন পারটাইমার। কলেজগুলিতে প্র্যাক্টিকাল ক্লাস হয়না। প্রাইভেট কলেজগুলিতে মনিটরিং নেই।এককথায় চরম দুরাবস্থা। শিক্ষকতা এখন পেশায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া বিশেষ জরুরী।

শিক্ষাক্ষেত্রে ‘হিন্দি’ ভাষা চালু করা কথা বলা হচ্ছে, আপনার কি মত হিন্দি ভাষা থাকাটা কি দরকার?

‘হিন্দি’ আমাদের রাষ্ট্রভাষা। এখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলিতে প্রথমে আসে ‘ইংরাজি’ তাঁর পরেই আসে ‘হিন্দি’। বাংলা পড়ানো হয় না। কারণ বাংলা আঞ্চলিক ভাষা। এখন শিক্ষা মাধ্যমে ৫০ নম্বরের ‘হিন্দি’ চালু হলে ক্ষতি কিছু হবে না। বরং ভালোই হবে। সেক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে উন্নতিও ঘটবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ চারতের অধিকাংশ মানুষই হিন্দি বলতে পারেন না। তাই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরী হয়। সবাই যাতে একই ভাষায় কথা বলতে পারে সেদিকে নজর রাখা খুবই দরকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here