গত সপ্তাহে এনআরসি লাগু হওয়ার পর তালিকা থেকে বাদ পড়লেন ১৯ লক্ষ মানুষ। যার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ জন গোর্খা সম্প্রদায়ভুক্ত। যারা একসময়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন বাদ পড়লেন তাঁরা। এবার “অসমের আকাশে বিষ” নিয়ে কলম ধরলেন জন আন্দোলন পার্টির নেতা হড়কা বাহাদুর ছেত্রী।

এনআরসিতে এক লক্ষ গোর্খারা প্রাণ হারিয়েছে এমনটাই তথ্যে উঠে আসছে কিন্তু সে বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও কোনও তথ্য নেই। যাদের নাম নাগরিকপঞ্জী তালিকায় বাদ পড়েছে তাঁরা তো হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানাচ্ছেন। তাঁরা তো কেউ সশরীরে আসেনি। এর আগে যাদের পুর্বপুরুষ এদেশে ছিল তাঁদের মধ্যে কিছুজনের নাম এই তালিকায় পাওয়া যায়নি। তার মানে তো মিথ্যা তো হতেই পারে না। তবে যে সংখ্যার কথা বলা হচ্ছে সেই সংখ্যার বিষয়ে বলতে পারব না। কিন্তু একটা বড় অংশ বাদ গিয়েছে।

আর আমি একটা কথা বুঝতে পারছি না। নাগরিকপঞ্জী তালিকায় নাম নথিভুক্ত করাতে হলে কি কি লাগে? কারণ আমি দেখছিলাম অনেকে বলছেন তাঁদের থেকে যা চাওয়া হয়েছে আমি সব দিয়েছি তবুও তাঁদের নাম কি করে বাদ গেল। একটা জেলার লোককে অন্য একটি জেলায় আনা হচ্ছে। অনৈতিকভাবে তাঁদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পিছনে কি উদ্দেশ্য রয়েছে সেটাই বুঝতে পারছি না।

এনআরসিতে বিধায়কের নাম বাদ পড়েছে। নাম বাদ পড়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকিরুদ্দিন আলি আকবর সাহেবের পরিবারের । দেশের স্বাধীনতার পিছনে যাদের অবদান রয়েছে, দেশের বিকাশের ক্ষেত্রে যাদের অবদান রয়েছে, দেশের সুরক্ষায় যাদের অবদান রয়েছে, যারা একসময় দেশের হয় লড়াই করেছে, তাঁদের নাম, তাঁদের পরিবারের নাম যদি বাদ যায়, তাহলে তাঁরা এনআরসির মাধ্যমে কি করতে চাইছে কিছু বুঝতে পারছি না।

আমি একটা খবরে দেখলাম যাদের নাম বাদ গেছে তাদেরকে ১২০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যদি সঠিকভাবে এবং আইনিভাবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথাই নয়। যদি তার নিরপেক্ষতা বজায় থাকে তাহলে এরকম হওয়া উচিত নয়। ১২০ দিন সময় দেওয়ার দরকারই ছিল না। এ বিধয়ে যদি আগে থেকেই পদ্ধতি মেনে কাজ করা হত তাহলে এই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হত না। এর মধ্যে রাজনতিক ইন্ধন রয়েছে তা একেবারেই স্পষ্ট।

একটা কথা ঠিক যে সুপ্রিম কোর্ট নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু যে পদ্ধতির মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি হচ্ছে, সেই পদ্ধতি তো অসমের সরকার করছে । তাঁরা যদি নিরপেক্ষ না হয় সেক্ষেত্রে তো কিছু করার নেই। তাঁরা তো একজন দেশের নাগরিক। তাহলে তাদেরকে কি ভাবে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেওয়া যায়?

দেশের সর্বত্র মেরুকরণের রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁরা কতটা ইতিহাস জানে তা আমার জানা নেই। আগে তো ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে হবে। নর্থ-ইস্ট তো আগে নর্থ-ইস্ট ছিল না। এটা তো ব্রিটিশদের তৈরি। যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে তাঁরা কি কারণে এসেছে সেটাই জানা নেই। এই ঘটনা কিন্তু বুমেরাং হতে পারে তাঁদের দিকেই ।

স্বাভাবিকভাবেই জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর যে অবস্থা চলছে তা থেকে মোড় ঘোরাতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। আর এমনিতেও জম্মু-কাশ্মীরে কি হচ্ছে সেটাতো আমরা জানতে পারছি না।এমনিতে জম্মু-কাশ্মীরে যারা বন্দি রয়েছেন তাঁদের খবর খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। যেটুকু খবর দু’একটা সংবাদমাধ্যম দেখাচ্ছে, সেটুকুই । সবাই তো মোদির ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। যারা প্রধানমন্ত্রীর হয়ে বা ওনার দলের হয়ে প্রশ্ন করছেন তাঁরা ভারতীয়। যারা বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদেরকে বহিরাগত বলা হচ্ছে।

১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, সেখানেই সমস্ত কিছু একেবারে প্রথম থেকেই পদ্ধতিগতভাবে ঠিক করা হত তাহলে এই সমস্যা হত না। সেদিনের সেই চুক্তিকে নানাভাবে ব্যবাহার করে এই এনআরসির মত বিষয়গুলিকে লাগু করা হচ্ছে। এই জিনিসটাকে আমরা সমর্থন করি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here