প্রতীকী ছবি

দ্য পিপল ডেস্কঃ করোনার কারণে চাকরি, ব্যবসা, বড় শিল্প, কুটির শিল্প সব কিছুইতেই মন্দা দেখা দিয়েছে।

করোনার পাশাপাশি বারংবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে চাষবাসের অবস্থাও খারাপ।

রুজিরোজকার হারিয়ে বেকায়দায় কোটি কোটি মানুষ। চিত্রটা গোটা বিশ্বের।

আর তাতেই সংসার, জীবন চালাতে সঞ্চয়ে অর্থে হাত দিতে হচ্ছে মানুষকে। হাত পড়েছে মহিলাদের গয়নাতেও।

কথায় বলে, বিপদের দিনের বন্ধু হল সোনা। করোনার বিপদের সময়ে সেই বন্ধুর দিকেই হাত বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

মন্দার বাজারে চড়চড়িয়ে দাম বেড়েছে সোনার। গয়না কেনার লোক প্রায় নেই বললেই চলে।

প্রতীকী ছবি

শখের গয়না কেনার মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানও হচ্ছে কাটছাট করে।

স্বাভাবিক ভাবেই উপহারও দিতে হচ্ছে বাজেটে কাটছাট করেই। সেখানে এই দুমূল্যের বাজারে সোনা উপহার দেওয়া কল্পনার বাইরে।

বর-কনেকে যতটুকু না দিলেই নয় তাই দিতে গিয়েই হাঁফিয়ে উঠছেন মেয়ের বাবা, ছেলের পরিবারের লোক।

মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা দিন কয়েক আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া এক বাবা নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, গয়না কেনার কথা বলতে গিয়ে ল্জ্জা পেতে হয় নিজেকে।

মেয়েকে কীভাবে বিয়ে দেব ভেবেছিলাম আর কীভাবে দিলাম! এভাবে মেয়ের বিয়ে দেব ভাবতেই পারছি না।

তিনি জানান, প্রত্যেক জিনিসের দাম যেভাবে বেড়ে গেছে ভাবনার বাইরে। মনের মতো করে কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।

যতটুকু না করলে নয় ঠিক ততটুকুই করেছি। একমাত্র মেয়ে-জামাইকেও মনের মতো করে সাজিয়ে দিতে পারলাম না, আফশোষ হচ্ছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, লকডাউনের বাজারে বিক্রি কমেছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। যেভাবে দাম বেড়ে গেছে তাতে সাধারণের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মধ্যমগ্রামেরই এক সোনার দোকানি বলরাম কর্মকার বলেন, সোনার জিনিস কেনা তো দূরের কথা! দাম বেড়ে যাওয়ায় লোক এখন সোনা বিক্রি করতে আসছেন প্রায় প্রত্যেকদিন ।

কাজ হারিয়ে মানুষের এমন অবস্থা যে মহিলাদের গয়না বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। কয়েক দিন তো সংসার চলবে, এই ভেবে!