দ্য পিপল ডেস্কঃ শুক্রবার বিজেপি খাতায় নাম লেখাচ্ছেন বিধাননগর পৌরনিগমের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত। অন্তত বিজেপি সুত্রেই এ খবর মিলেছে। এদিনেই তিনি রওনা দেন দিল্লির উদ্দেশ্যে।

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

সব্যসাচীর দল বিরোধী কাজকর্ম ভালো চোখে নেননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচীর অতি ঘনিষ্ঠতা তৃণমূল নেতৃত্বের না পসন্দ। একাধিক বার চেষ্টা করেও যখন সব্যসাচীর মুখে লাগাম পড়ানো যায়নি। তখনই শুরু হয়ে যায় সব্যসাচীকে সরানোর প্ল্যান।

তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন দলেরই ৩৫ জন কাউন্সিলর। এরপরেই মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ান সব্যসাচী দত্ত। তারপর থেকেই সব্যসাচীর বিজেপিতে যোগ নিয়ে শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই জল্পনা বাড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার দিল্লির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন সব্যসাচী দত্ত। তবে কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি? যদিও ব্যাক্তিগত কাজে দিল্লি যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সব্যসাচী।  

সোমবার বিজেপিতে যোগ দেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেদিন থেকেই জল্পনার শুরু হয় সব্যসাচীকে ঘিরেও। যদিও সেদিন তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন সব্যসাচী।

একদা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের ভরসা ছিলেন সব্যসাচী। এক সময়ের বামেদের ঘাঁটি ছিল রাজারহাট। সব্যসাচীর ক্যারিশমাতে সেই এলাকা এখন তৃণমূলের দুর্গ। দক্ষ সংগঠক হওয়ার দরুন তাঁকে বিধাননগর পৌরনিগমের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু দল বিরোধী কাজের জন্য ক্রমেই দুই রাজনীতিবিদের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে শুরু করে, এমনটাই সূত্রের খবর।  

সদ্য কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেভাবে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করা হয়েছে তার বিরোধিতা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অন্যদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করেন সব্যসাচী। একজন পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ হিসেবে সব্যসাচীর এহেন মন্তব্য তাঁর দলবদলের জল্পনা আরও বাড়িয়ে তোলে।   

এর আগে লোকসভা নির্বাচনের আগে সব্যসাচীর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়। যদিও সেদিনের লুচি-আলুরদমের আড্ডাকে অতিথি আপ্যায়ন বলেছিলেন দুই দুঁদে রাজনীতিবিদ। বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। এমনকি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার আগে মুকুল রায়কে সব্যসাচীর বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। সব্যসাচীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা তৃণমূলের নেই বলে জানিয়েছিলেন একদা দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়। সদ্য মধ্যমগ্রামে দলের প্রাশাসনিক বৈঠকে জলাভরাটের অভিযোগ তুলতে দেখা গিয়েছিল সব্যসাচীকে। নিজেদের বিষয় নিজেরাই মিটিয়ে নেওয়া দরকার বলে জানান দলনেত্রী।

সব্যসাচীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের এই জল্পনার অবসান শুক্রবার দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে হয় কিনা তার জন্য অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।