।। গৌতম ভট্টাচার্য ।।

২১ জুলাই এবারও শহিদ দিবস পালন করবে তৃণমূল। সমাবেশ হবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে।গতবারও রেকর্ড ভিড় হয়েছিল। এবারও সেই ভিড়টা টানতে পারাই তৃণমূল নেতাদের কাছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যুব কংগ্রেস করতেন, তখন রাইটার্স বিল্ডিং অভিযান করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল কয়েকজন তরুণের।তার পর থেকে শহিদ দিবস পালন করে আসছেন মমতা। প্রথম প্রথম নিয়ম রক্ষার জন্য দিনটি পালন হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আড়েবহরে বেড়েছে সমাবেশের কলেবর। তৃণমূলের পায়ের নীচের মাটি যত শক্ত হয়েছে, ততই জৌলুশ বেড়েছে সমাবেশের।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে বেআব্রু হয়ে পড়েছে দলের করুণ ছবি।উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ সর্বত্রই জয়জয়কার পদ্মের।৪২টি আসনের মধ্যে গতবার পদ্মশিবির যেখানে মাত্র দুটি আসন পেয়েছিল, এখন সেখানে তারাই পেয়েছে ১৮টি। তার পর থেকে একটু একটু করে ভেঙেই চলেছে ঘাসফুলের গড়।

এতদিন ব্রিগেড ভরাতে তৃণমূলের মূল হাতিয়ার ছিল উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দুটি জায়গায়ই কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে মমতার দল। দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার উত্তরের প্রায় সব রাজ্যেই ফুটেছে পদ্ম। দক্ষিণের জঙ্গলমহলও প্রায় শূন্য হাতে ফিরিয়েছে মমতাকে। মাওবাদীদের দাপটে এক সময় অশান্ত হয়ে উঠেছিল জঙ্গলমহল। মহুল নয়, বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে থাকত জঙ্গলের বাতাস। আঁধার নামলেই শুকনো পাতার ওপর খসখস শব্দ করতে করতে চলে যেত বনপার্টি। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সরকার।নিহত হয় কিষেনজি। তার পরেই এরাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায় কিষেনজির দল। মাও-শূন্য জঙ্গলে দাপাদাপি শুরু হয় তৃণমূলের।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে এই জঙ্গলমহলেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। জঙ্গলমহলের প্রায় সর্বত্রই ফুটেছে পদ্ম। হুগলিতেও তৃণমূলের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। দুই বর্ধমানেও আশানুরূপ ফল হয়নি। মুর্শিদাবাদ, মালদহ থেকে তো কোনওদিনই তৃণমূলের সভায় প্রচুর লোক আসতেন না।

তাহলে লোকটা আসবে কোথা থেকে?  এ প্রশ্নটা এখন ঘুরছে তৃণমূল নেতাদের একাংশের মুখে মুখেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এরকম হাতে গোণা কয়েকটি জেলা বাদ দিলে তৃণমূলের জয়জয়কারের সেই ছবিটা আর কোথায়? যেসব জেলা থেকেই সব চেয়ে বেশি ভিড় হত, সেই সব জেলাতেই এবার দলের অবস্থা করুণ।

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো রয়েছে কাটমানি ইস্যু। যে ইস্যুতে উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। কাটমানি ফেরত চেয়ে প্রতিদিনই কোনও না কোনও তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা হচ্ছে। এজন্য দলনেত্রীকেই দুষছেন দলের নিচুতলার নেতাকর্মীরা।

২১ জুলাই তাঁরা তো মাঠমুখো হবেনই না, আসবেন না তাঁদের অনুগামীরাও। তাই ২১ জুলাইয়ের সভার মাঠ কীভাবে ভরানো হবে, তা নিয়ে চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে তৃণমূল নেতাদের। ব্রিগেডের বদলে অন্য কোথাও সমাবেশ করা যায় কিনা, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলেও তৃণমূল সূত্রের খবর।