অফিস পলিটিক্স এড়িয়ে চলবেন কীভাবে?

0
53

দ্য পিপল ডেস্কঃ কর্মসূত্রে যারা কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাছে ‘অফিস পলিটিক্স’ শব্দটি বহুল পরিচিত। কর্মক্ষেত্রে সকলেই নির্ঝঞ্ঝাট ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ চান। কিন্তু জীবনে চাওয়ার সঙ্গে পাওয়ার মিল থাকবেই এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই নিজের অজান্তেই অফিস পলিটিক্স এর শিকার হন অনেকেই। পরিস্থিতি চরম আকার নিলে অনেকে বাধ্য হন চাকরি ছাড়তেও।

অফিস পলিটিক্স কী ?

একটু অন্যরকমভাবে যদি বলা যায়, অফিস একটি রাষ্ট্রের মত। আর সেখানকার কর্মীরা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মীদের মত। রাষ্ট্র পরিচালনায় যেমন রাজনীতি থাকে তেমনি অফিসের কার্যক্রমেও রাজনীতি থাকে।

অফিস পলিটিক্স এড়িয়ে চলবেন কীভাবে?

কোন কোন সময় নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সেটা চরম আকার ধারণ করে। এটি এমন একটি বিষয় যা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে। যা তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সংঘাত তৈরি করে।

কেন হয় অফিস পলিটিক্স?

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীরা যখন অল্প পরিশ্রমে বেশি সুবিধা লাভের জন্য চেষ্টা করে তখন অফিস পলিটিক্স মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠানের দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান ব্যবস্থাও এর অন্যতম প্রধান কারণ।

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে একে অন্যের সমালোচনা করার ফলেও প্রতিষ্ঠানে অফিস পলিটিক্স গড়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মাত্রার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও এর কারণ।

কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি।

অন্যের কাজে অতিরিক্ত মাত্রায় নাক গলানো।

স্বজনপ্রীতির পরিবেশ।

প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মীদের একে অন্যের প্রতি ঈর্ষা।

নিজের পজিশন-কে অতিরিক্ত প্রায়োরিটি দিয়ে অন্যদের ছোট করে দেখা।

নিজের স্বার্থে সকলের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি করা।

অফিস পলিটিক্সের থেকে বাঁচার উপায়ঃ

অফিসের সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখুন। কারো সঙ্গে ইচ্ছাকৃত খারাপ ব্যবহার করবেন না।

কারণ খারাপ ব্যবহার থেকেই সৃষ্টি হয় প্রতিপক্ষ। জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আপনি কোনো পক্ষকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিষ্ঠান স্বার্থ এবং লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ দিন।

উভয়ের মধ্যে সাধারণ যোগাযোগের পরিবেশ সৃষ্টি করুন।

অফিস পলিটিক্স এড়িয়ে চলবেন কীভাবে?

কাজ করতে গিয়ে কখনও কখনও আপনার সঙ্গে অন্য কোনো সহকর্মীর সঙ্গে মতানৈক্য তৈরী হয়ে যেতে পারে।

আপাত দৃ্ষ্টিতে বিষয়টি মামুলি আকার হলেও অনেক সময়ে ভুল বোঝাবুঝি কিন্তু প্রতিশোধ স্পৃহা তৈরী করে।

এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে যে সহকর্মীর সঙ্গে আপনার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে তার সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন।

অফিস পলিটিক্স জয় করার জন্য আপনি বরং বন্ধুত্বের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারেন। অফিসের মধ্যেই আপনার বন্ধুর সংখ্যা বাড়াতে পারেন।

যে কোনো সংকট উত্তরণে সহকর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করুন। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব পরস্পরের মধ্যে কেবল খারাপ সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

কর্মক্ষেত্র কোনো দৌড় প্রতিযোগিতা নয়। অন্যান্য প্রতিযোগিতা আর কর্মক্ষেত্র এক নয়। কিভাবে আমরা উভয় জিতে যেতে পারি সেই পন্থা অবলম্বন করতে হবে।তার জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে অন্যের দৃষ্টিকোণ বুঝতে হবে এরপর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।

অফিসে অন্যের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াবেন না।

সবসময় নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

নিজের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেটাতেই নিজের মনোযোগ ধরে রাখুন।

নিজের কাজকে উপভোগ করুন।

একটা বিষয় সত্য, কর্মক্ষেত্রে একজনের পারফরমেন্সই তাকে অফিসে টিকিয়ে রাখে। তাই আপনি আপনার নিজের কাজে হয়ে উঠুন সেরা। যেন কেউ শত রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক মারপ্যাচে ফেললেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন আপনার সাথে থাকে। কারণ তারা জানে যে, ঐ কাজে আপনিই সেরা।

তাই নিজের প্রতি আস্থা রাখুন। নিজের কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। কর্মক্ষেত্রে থাকুন আত্মবিশ্বাসী আর নির্ভয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here