ড্রাগনভূমিতেও ভারতকে রক্ষা করেছিলেন এই ‘রাম’ !

0
122

দ্য পিপল ডেস্কঃ একা রামে রক্ষে নেই… এই প্রবাদ বাক্যটি আমাদের দেশে বিশেষত বাংলায় বহুল প্রচলিত। সত্যিই এক রাম নয়, বহু রাম এদেশের ইতিহাসে, প্রতিদিনের জীবনে মিলেমিশে আছেন।

এক ব্যতিক্রমী রামের জন্মদিন

আজ সেই সব রামেদের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী রামের জন্মদিন। যিনি ভারতের ভবিষ্যতকে বিশেষ করে ভারতীয় মেয়েদের ভবিষ্যতকে এক নতুন খাতে বইতে শুরু করিয়েছিলেন।

তিনি বাঙালির রাম, রামমোহন রায়। ইতিহাস যাঁকে সম্মান জানিয়েছে ‘রাজা’ উপাধি দিয়ে। দেশের প্রথম আধুনিক মানুষ হিসেবে যাঁর নাম ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে তার বুকে ঠাঁই দিয়েছে তিনি রাজা রামমোহন রায়।

সতীদাহ প্রথা আইন করে বন্ধ করেছিলেন তিনি, বেশিরভাগ বাঙালির কাছে এই পরিচয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে আছেন তিনি। বহুমুখী প্রতিভার এই মানুষটি মূর্তিপুজোয় বিশ্বাসী ছিলেন না।

‘রাম’কে বোঝা বড় দায়

সংস্কৃতে পণ্ডিত রামমোহন সমাজে প্রচলিত অন্ধ, কুসংস্কার দূর করার জন্য একের পর এক ধর্মীয় শাস্ত্রগ্রন্থের অনুবাদ শুরু করেন। যাতে সাধারণ মানুষ নিজের ভাষায় তা পড়ে বুঝতে পারে শাস্ত্রে কী বলা আছে, যাতে ধর্মের ধ্বজাধারীরা নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে ভুল বোঝাতে না পারে। এহেন মানুষটিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই সমাজ মানতে পারবে না, পারেওনি। নিজের বাবা তাঁকে ত্যজ্যপুত্র করেন।

সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, পারসি, গ্রিক, হিব্রু ভাষায় লিখতে, বলতে বিশেষ পারদর্শী তবে খাঁটি হিরে চিনতে সবাই ভুল করে না। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, রামমোহন রায় একজন মস্ত পালোয়ানও ছিলেন । শারীরিক কাঠিন্য এবং তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন এই মানুষটি মুঘল ও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দূত হয়ে আমেরিকা, ফ্রান্স, ভূটানে যান ।

কৃষ্ণকান্ত বসুকে নিয়ে ড্রাগনভূমিতে রাম

ড্রাগনভূমি ভুটান ও ভারতের মধ্যে যখন কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে । সেইসময়ই রামমোহন রায় এবং কৃষ্ণকান্ত বসুকে ভুটানের রাজার সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য পাঠিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি । সেইসময়ের কথা ‘ড্রাগনভূমির অজানা রহস্য’ বইয়ে তুলে ধরেছেন লেখক প্রসেনজিৎ হোমচৌধুরী । তার নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে –    

“রংপুর ১৮১৫

বকুল গাছটা ছাতার মতো ছড়িয়ে আছে পুরো বাড়িটায়। বেশ ছায়া ছায়া৷ গাছের নিচে অনেকটা জায়গায় মাটি কোপানো৷ একপাশে দুটো খাটিয়া৷ এটা একটা কুস্তির আখড়া৷জনাকতক কুস্তিগীর হুমহুম করে মুগুর ঘোরাচ্ছে৷ আখড়ার মধ্যিখানে দু’জন লড়ছে কুস্তি৷ চলছে প্যাঁচের কেরামতি৷ মাঝে মধ্যে নিয়মের বাইরে গিয়ে চোরাগোপ্তা হাত চালাচ্ছে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী৷ এরা একে অপরকে পিষে দিতে চায়৷ হঠাৎ বেকায়দায় পেয়ে এক পালোয়ান অন্যজনকে প্রবল শক্তিতে ছুঁড়ে দিল। কতটা ক্ষিপ্র হলে এমনটা করা সম্ভব?  আসলে মোহনবাবুর সঙ্গে লড়াই মানেই কঠিন ঠাঁই৷ আখড়ায় তার ভয়ঙ্কর রূপ৷ চিৎ হয়ে পড়ে থাকা পালোয়ানটাকে এক ঝটকায় টেনে তুললেন তিনি। নিয়মমাফিক হাত মিলিয়ে আখড়া ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। দেওয়ান মোহনবাবুর দৈহিক শক্তিকে সম্মান করে স্থানীয় কুস্তিগীরের দল৷ শুধু শক্তির প্রয়োগ নয়, তিনি জ্ঞান তপস্বী হিসেবেও পরিচিত৷

আখড়া থেকে বেরিয়ে সবেমাত্র ঘরে এসেছেন মোহনবাবু৷ বারান্দায় বসে জিরোচ্ছিলেন৷ বড় লোটা ভর্তি দুধ সামনে রাখা৷ রোজ কুস্তি করে আসার পর এতেই তার তেষ্টা মেটে৷ দুধ খেয়ে তিনি স্নান করবেন৷ তারপর থালা ভর্তি লুচি-মিষ্টি দিয়ে সারবেন প্রাতঃরাশ৷ ঘর থেকে লুচি ভাজার গন্ধ আসছে৷ সেই সময় এল ডিগবি সাহেবের খাস আর্দালি৷ নমস্কার জানিয়ে চিঠিটা এগিয়ে দিল৷ বিস্মিত মোহনবাবু সেটা নিয়ে পড়তে শুরু করেন৷ পড়া শেষ হতেই তড়িঘড়ি স্নান করতে ছুটলেন তিনি৷ চিঠিতে দেওয়ান রামমোহন রায়কে ভুটান যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রংপুরের কর্তা ডিগবি সাহেব৷ এই কূটনৈতিক যাত্রায় থাকবেন আরো একজন। তার নাম কৃষ্ণকান্ত বসু৷ তিনিও কোম্পানির বড় কর্মী৷ সীমান্ত এলাকার সমস্যা মেটাতে এরা দুজনেই ড্রাগন রাজার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন৷ বেশ কয়েকদিন হল ভুটানি সেনার বাড়াবাড়ি নিয়ে চিন্তিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি৷”

দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন এই রাম । জন্মদিনে উনিশ শতকের নবজাগরনের অন্যতম পথিকৃৎ এই মনীষিকে দ্য পিপল টিভির সশ্রদ্ধ প্রণাম ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here