দ্য পিপল ডেস্ক : মহামারি করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। রোধ করা তো দূরের কথা, তার হাত থেকে পার পাচ্ছে না আট থেকে আশি।


এই করোনা ভাইরাসে ভয় শহর ছাড়িয়ে গ্রামেগঞ্জেও আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। রমরম করা শহরাঞ্চলও আজ মাথা নুইয়েছে করোনার দাপটে।


হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষের রুটি-রুজি। এমনই অবস্থা গ্রামাঞ্চলের দিন আনা দিন খাওয়া টোটো চালকদের।


নামখানা ব্লকের শিবরামপুর গ্রামের টোটো চালক রাজিব জানা বলেন, আজ টোটোর চাকা একদম স্তব্ধ হয়ে গেছে।

এই করোনার আবহে লকডাউনের ফলে আমাদের আয় একদম তলানিতে ঠেকেছে। আগামী দিনগুলো কি খেয়ে বাঁচবো তা ভেবে কুল পাচ্ছি না।

একদিকে লকডাউন আর অন্যদিকে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের ঘা এখনো শুকোয়নি সুন্দরবনবাসীর।


সেই সঙ্গে যে কোনও সময় করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয় তো আছেই। তবু ঘরে বসে থাকলে তো আর চলে না।


টোটো নিয়ে রাস্তায় বেরতেই হয়। মনে আশা যদি কিছু আয় হয় তবু পরিবারের মুখে কিছু তো তুলে দেওয়া যাবে।
কিন্তু এমন অবস্থা সবাই এখন কষ্ট করে চলছে। যদি কিছু বাঁচানো যায় সেই আশায়।


অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব মানতে কম লোক তুলে ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। ফলে লোকের পক্ষে চাপ আরও বেড়েছে।


তাই না পারতে টোটোতে কেউ উঠতেই চাইছে না। আক্ষেপ টোটো চালক রাজিব জানার।

আর একজন টোটো চালক শম্ভুনাথ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টোটো না চলার ফলে টোটোর সরঞ্জাম অকেজো হয়ে পড়েছে।


মাত্র কয়েক মাস হল ব্যাটারি পরিবর্তন করেছি। এই করোনার ফলে টোটোর হাল বেহাল হয়ে পড়েছে।


আয় তো নেই উল্টে অনেক টাকা ক্ষতির মুখে পড়ে গেলাম।

শুধু শিবরামপুর নয়, নামখানা ব্লকে অনেক মানুষ এই টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।


কিন্তু এইরকম চলতে থাকলে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজনের অবস্থা আগামী দিনে খুব ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।


সেই আশঙ্কায়, আতঙ্কে দিন কাটছে শুধু নামখানা নয়, গোটা দেশের টোটো, ভ্যান, রিকসা চালকদের।