দ্য পিপল ডেস্কঃ ফুলশয্যার রাতে নব পরিণীতার অধরে প্রথম চুমু। কিংবা স্কুল-কলেজে পড়ার সময় মনের মানুষটিকে নিরালায় পেয়ে কপালে ভালোবাসার চিহ্ন হিসেবে চুমুই দিয়ে থাকি আমরা। প্রেমিকের গাঢ় চুম্বনে লজ্জায় লাল হয়ে যায় প্রিয়ার গাল। এসবই ভালোবাসার প্রথম প্রকাশের চিহ্ন।

যৌনসঙ্গমের সময়ও চুমু মাস্ট। মনের মানুষটিকে সহজে উত্তেজিত করতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে চুমু যে শুধুই রতিসুখের কারণে খেতে হয়, তা কিন্তু নয়। আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি, এই বারতা দিতেও চুম্বন প্রয়োজন।

ভারতীয় কামশাস্ত্রেও চুমুর গুরুত্ব স্বীকার করা হয়েছে। বস্তুত চুমুর যে নানা শেড রয়েছে সে কথাটা প্রথম বলেন ভারতীয় কামশাস্ত্রকার বাতসায়ন। তিনিই প্রথম জানান, রতিক্রীড়ার সময় যিনি যত বেশি চুম্বন করতে পারবেন, যৌনজীবনে তিনিই তত সুখী।

বাতসায়নের মতে, সাত রকমের চুমুর মাধ্যমেই মনের মানুষটিকে দেওয়া যায় ভালোবাসার বার্তা।

ভোরে ঘুম ভাঙার পরেই যদি পাশে শুয়ে থাকা প্রিয় মানুষটির ঘুম ভাঙাতে চাই, তাহলে ছোট্ট একটা চুমুই যথেষ্ট। এতে যাঁকে চুমু খেলেন, তিনি বুঝলেন আপনি তাঁকে খু-উ-ব ভালোবাসেন। আর যিনি খেলেন, তিনি তো উঠে যান সুখের সপ্তম স্বর্গে। যে চুমু দিয়ে আপনি জাগিয়ে তুললেন আপনার সব চেয়ে প্রিয় মানুষটিকে, তাকে বলে চৈতক চুম্বন।

প্রিয় মানুষটি কাছে না থাকলেও আমরা তাঁর ছবিতে চুমু খাই। এতেও যিনি চুমু খাচ্ছেন, তাঁর সুখ উতপন্ন হয়।একে বলে সংক্রান্তক চুম্বন।   

আমরা সচরাচর নীচের ঠোঁঠেই চুমু খাই। অধরে চুমু খেতে পছন্দ করেন সিংহভাগ নারীপুরুষই। তবে কামোত্তেজনা বাড়াতে ওপরের ঠোঁটেও চুমু খাই আমরা। বাতসায়নের মতে, এটি হল উত্তর চুম্বিতক।

প্রিয় মানুষটিকে কাছে পেতে চাই। যদি আরও কাছে পেতে চাই, অথচ তা বলতে পারছি না, সেক্ষেত্রেও একটা চুমুই যথেষ্ট। এই চুমুর নাম নিমিত্তক চুম্বন। এই চুমুর মাধ্যমে বোঝানো হয়, আমি আমার মনের মানুষটিকে কাছে পেতে কতটা আগ্রহী।

মনোমালিন্য দূর করতেও হাতিয়ার সেই চুমু। সচরাচর এই চুমু খান মেয়েরা। ব্যস্ত পুরুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতেও এক ধরনের চুমু খাওয়া হয়। কামশাস্ত্রের ভাষায় এর নাম চিত্তচাঞ্চল্যকর চুমু।

কোনও পুরুষ যদি তাঁর প্রিয়তমার অধর চুষতে থাকেন, সেটাও তো প্রিয়তমাকে উত্তেজিত করার একটা কৌশল। ইংরেজি সাহিত্যে একে বলে এনভেলপিং কিস। খামের মধ্যে যেমন বন্দি থাকে ভালোবাসার কথা লেখা চিঠি, তেমনি এক্ষেত্রেও প্রিয়ার ঠোঁট বন্দি রয়েছে পুরুষটির মুখে।

শরীর ছাড়াও চুমু খাই আমরা।মনের মানুষটি কাছে না থাকলেও একটু রোমান্টিক মনের যাঁরা, তাঁরা আয়নায়, দেওয়ালে কিংবা জলেও প্রিয় মানুষটির মুখচ্ছবি কল্পনা করে চুমু খান। বাতসায়নের ভাষায় এটি ছায়া চুম্বন।

কামশাস্ত্রকারের মতো আধুনিক নানা পরীক্ষায়ও জানা গিয়েছে, ছোট্ট একটা চুমুই বদলে দিতে পারে নারী-পুরুষের জীবনের অনেক কিছুই। 

51 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here