দ্য পিপল ডেস্কঃ আতঙ্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছেনা সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের। ২০০৯ সালের মে মাসে সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় আছড়ে পড়েছিল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আয়লা। ১০ বছর পর ফের সেই সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবনের দিকে ধেয়ে আসছে বুলবুল ।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতিবেগ বাড়িয়ে ক্রমশ ওড়িশা উপকূল হয়ে পশ্চিমবঙ্গের দিকে ধেয়ে আসছে বুলবুল ।আছড়ে পড়ার সময় বুলবুল -এর গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার।

বুলবুলের প্রভাবে শুক্রবার রাত থেকেই কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা গুলিতে শুরু হয়েছ বৃষ্টি। সেইসঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। শনিবার ভোর-রাত থেকে বেড়েছে বৃষ্টির পরিমান।জানা গেছে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ৩১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বুলবুল।

ধেয়ে আসছে বুলবুল , সর্তকতা পশ্চিমবঙ্গ সহ উত্তরপূর্বেঃ

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যের দিকে পশ্চিমবঙ্গে সাগরদ্বীপ ও সুন্দরবন এলাকায় আছড়ে পড়বে বুলবুল।

এরপর বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অসমের দিকে চলে যেতে পারে বুলবুল।

আরও পড়ুন : ক্রমশ বাড়ছে আশঙ্কা , ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

এর প্রভাবে হাল্কা থেকে মাঝারী বৃষ্টিপাত হতে পারে মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অসমে।

পাশাপাশি দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, কলকাতা, হুগলি, ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত ফেরি ঘাটগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

সমুদ্র উত্তাল থাকায় আগামী কয়েকদিন মৎসজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷

৭ জেলার সব বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

পাশাপাশি ওই জেলাগুলিতে ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারী স্কুলও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

ক্ষতক্ষতি রুখতে সতর্কতাঃ

সুন্দরবন অঞ্চলের কাকদ্বীপ, সাগর, পাথর প্রতিমা, নামখানা এলাকায় ৬৪টি আশ্রয়শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শুক্রবার যাঁরা এই আশ্রয়শিবিরে এসেছেন তাঁদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে।

এসব অঞ্চলে মাইকিং করা হচ্ছেয বুলবুলের আছড়ে পড়ার কথা বলা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের দীঘা, বকখালি, মন্দারমণি, ফ্রেজারগঞ্জ এলাকায় সরকারের তরফ থেকে মাইকিং করে সমুদ্র তীরে পর্যটক ও স্থানীয় লোকজনের যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আয়লার স্মৃতি উসকে ত্রস্ত সুন্দরবনঃ

২০০৯ সালে আয়লার হানায় রাজ্যের দুই চব্বিশ পরগনা, কলকাতা এবং বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল।

ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিবেগের ঘূর্ণিঝড় এবং তার সঙ্গে বিশাল জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায়।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৩৩৯ জনের।

আরও পড়ুন : আরব সাগরে গভীর নিম্নচাপ, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১৫০ মানুষের। প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিলেন।

কয়েক লক্ষ বাড়িঘর চলে গিয়েছিল জলের তলায়।

এ বার হয়তো এমন পরিস্থিতি এড়ানো যাবে—এমনটাই মনে করছে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা।

কলকাতার মেয়র ফরহাদ হাকিম বলেছেন, “কলকাতা পৌরসভা বুলবুল মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফণীকে যেমন আমরা মোকাবিলা করেছিলাম এবার বুলবুলকেও মোকাবিলা করব।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here