‘তেরে পাস কেয়া হ্যায়?’ ‘মেরে পাস মা হ্যায়’

0
144

।। সুস্মিতা সাহা মজুমদার ।।

তুমি আছ এত কাছে তাই, পৃথিবীতে স্বর্গকে পাই...

একটু পাল্টে নিন, পৃথিবীতে স্বর্গ নয়, আসানসোলের বাজারে ভোট। আরও একটু খুলে বলি, ইদানীং বেশ কিছু ব্যাঙ্গ পোস্টার ঘুরছে সোশাল মিডিয়া থেকে আসানসোলের বিরোধীদের মুখে মুখে। যে, সুচিত্রা সেন নাকি তাঁর কন্যা মুনমুন সেনের হয়ে প্রচার করছেন।

শুনতে অবাক লাগলেও যা রটে তার কিছুটা তো বটে। মুনমুন সেনের নাম লেখা পোস্টার ব্যানারে দেখা যাচ্ছে মহানায়িকার একাধিক ছবি। কিন্তু কেন? বিরোধী ‘শত্তুররা’ বলছেন, মুনমুন ম্যাডামের বিপক্ষে আছেন আর এক তারকা প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়, যিনি গতবারের বিজয়ী।

গত পাঁচ বছরে এলাকায় তাঁর পরিচিতি বেশ। অন্যদিকে মুনমুন সেন এবার নতুন প্রার্থী হয়ে লড়তে চলেছেন আসানসোল থেকে। তাই লড়াইটা বেশ হাড্ডাহাড্ডি। এক্ষেত্রে কাজে তিনি লাগাতে চাইছেন মায়ের ইমেজ। তা নিয়ে নেট দুনিয়াতেও শুরু হয়েছে মজার মিম।

সাদা-কালো সময়ের হলেও মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বাঙালির সর্বকালীন হার্টথ্রব। তাঁর ইমেজ লিখে বোঝানোর নয়, পাবলিক তা বিলক্ষণ জানেন। সেই ইমেজকে ভোটের বাজারে নামিয়ে আনতে পিছু-পা হননি মুনমুন সেন। ভোট বলে কতা।

এমনকী ভোট প্রচারে জনসভায় গিয়ে তিনি গলা বাড়িয়ে বলছেন, মায়ের জন্যই আমার পরিচিতি। আপনারা যেমন আমার মাকে ভালবাসেন তেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে ভোট দিন। পাশ থেকে একদল ফুট কাটল, বাপু তোমার মাকে ভালবাসি বলে তোমায় ভোট দিতে হবে কেন?

এহেন মায়ের লক্ষ্মী মেয়ে ভোটের হাতিয়ার হিসেবে বিরোধীদের আক্রমণ বা নিজের দলের সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান বা পরবর্তী সময়ে কী কী কাজ করবেন এলাকায় তার কথা না বলে কাজে লাগাচ্ছেন মায়ের জনপ্রিয়তার আবেগ।

নিন্দুকরা বলছেন, গ্ল্যামার আর এই ইমেজকে কাজে লাগিয়েই তো আগের ভোটে জিতেছেন, কাজের কাজ কিছুই করেননি, তাই সেই কেন্দ্র বাঁচাতে এবার মুখ্যমন্ত্রী দলের পোড় খাওয়া নেতা সুব্রত মুখার্জীকে প্রার্থী করেছেন।

সাধারণ মানুষ তো আর এত কচকচানি বোঝেন না, তাঁরা মহানায়িকাকে না পান তাঁর মেয়েকে নিয়েই আপাতত খুশি। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো আর কী। হাতে হাত মিলিয়ে আর সেলফি তুলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

ওহ্ ইতিমধ্যে তিনি আবার বলেছেন, যদি কেউ ভোটের জন্য টাকা দেয়, নিয়ে নেবে। যদি কেউ ভোট দিতে যেতে অসমর্থ হন তাহলে যেন পার্টী অফিসের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

‘তেরে পাস কেয়া হ্যায়?’ ‘মেরে পাস মা হ্যায়।’ মনে পড়ে ‘দিওয়ার’ সিনেমার সেই বিখ্যাত ডায়লগ। বাঁচাও মা, মাগো, ভোট যে বড় বালাই।  

তবে সেই খুশির পরত ভোটের বাক্সে পড়বে কিনা তা সময়ের অপেক্ষা, বলাইবাহুল্য।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here