গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভোট আদৌ উৎসব নাকি আতঙ্ক?

0
63

দ্য পিপল ডেস্কঃ ভোটের বাজার গরম করতে রাজনীতিকদের জুড়ি মেলা ভার। বলাই বাহুল্য। ভরা বৈশাখে প্রকৃতির উত্তাপ থেকেও মাঠে-ময়দানে বক্তৃতার উত্তাপ যেন আরও জোরালো হয়ে ঠিকরে পড়ছে।

তবে এই সময়ে মানে ভোটের সময়ে বহু চর্চিত একটি শব্দ হল “গণতন্ত্র”। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচারিত হচ্ছে একটি শব্দবন্ধ “গণতন্ত্রের উৎসব”। “উৎসব” শব্দ প্রয়োগ কতটা যুক্তিযুক্ত? ভোট কী আদৌ উৎসবে পরিণত হয়েছে?

উৎসব তো মিলনমেলা। সেখানে মানুষ স্বতস্ফূর্ত অশংগ্রহণ করেন, আনন্দে মেতে ওঠেন, আনন্দ খুঁজতে যান, সেই খুশি অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। কিন্তু ভোট কী তাই? ভোট এলে আজকাল আম জনতার মনে ভয় জাগে, আবার কটা লাশ যে পড়বে ! আবার কত রক্ত ঝরবে ? আদৌ ভোট দেওয়া যাবে তো ? না হলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে গ্রামবাসীদের বাড়ি থেকে এনে ভোট দেওয়া করিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসতে হয় কেন?

“গণতন্ত্র”এর সঠিক ধারণা অনেক দূরে সরিয়ে রাজনীতির লোকেরা তাকে নিজেদের মতো করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কাতারে কাতারে লোক, বলা ভালো পাবলিক তা খাচ্ছে, হাততালি দিচ্ছে। এখন আবার “গণতন্ত্র”এর নতুন নাম হয়েছে লোকতন্ত্র। প্রতিদিন “গণতন্ত্র” আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সঙ্গে মস্করা করে চলেছে বা বলা যেতে পারে করিয়ে নেওয়া হচ্ছে রাজনীতির মারপ্যাঁচের মাধ্যমে। প্রতিদিন যেন “গণতন্ত্র” গণধর্ষিত হচ্ছে একটু একটু করে।

কথায় বলে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। “গণতন্ত্র”র মুখোশধারী রাজনৈতিক দলগুলির নিজেদের পতাকা উড্ডীন রাখতে উলুখাগড়ারূপী  সাধারণ মানুষ বলি হচ্ছে । একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ বিষের প্রভাবে রক্ত ঝরাচ্ছে। যুদ্ধে যদি প্রাণ নাই গেল তবে আর যুদ্ধ কিসের, বীরত্বই বা কিসের?

প্রতিদিন “গণতন্ত্র”র নামে লুঠ হচ্ছে সাধারণ মানুষের হকের সম্পদ, সরকারি কিছু প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার নামে, ঠিক যেন সেই ‘খুড়োর কল’ এর মতো।

প্রতিদিন “গণতন্ত্র”কে ব্যবহার করে রাজনৈতিক কিছু লোক পাইয়ে দেওয়ার নামে কিছু বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, সমাজসেবী, শিল্পপতিদের তাবেদারি করে চলেছে এবং নিজের আগামী সাতপুরুষের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে।

আর আমরা সেই লোকটির মতো ঘরে মড়া আগলে রেখে প্রতিদিন তার সঙ্গে দৈনন্দিন ব্যবহার করে চলেছি এই বিশ্বাসে যে একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে । ওই “একদিন ঝড় থেমে যাবে, পৃথিবী আবার শান্ত হবে” গোছের আর কি…

যতদিন আমরা প্রশ্ন করতে না শিখব যে “রাজা তোর কাপড় কোথায়?”

ততদিন হয়তো আমরা নিজেদের অবমাননা- লাঞ্ছনাকে এই ভাবেই অপরের চাপিয়ে দেওয়া “উৎসব” হিসেবে দেখে যেতে থাকব। আর তেনারা আমাদের মাথায় টুপি পড়াতেই থাকবেন, পড়াতেই থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here