‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ কী কষবে কড়া করে?

0
59

।। সুস্মিতা মজুমদার (সাহা) ।।

‘ফির একবার, মোদি সরকার’।

‘চলো আমরা আর একবার, গড়ে তুলি মোদি সরকার’।

– বাংলা হোক বা হিন্দি, ভোট মরশুমে এমনই সব স্লোগান মার্কা বিজ্ঞাপনে ভরে গেছে সংবাদ মাধ্যম থেকে সামাজিক মাধ্যম।

লক্ষ্যণীয় যে, সবক্ষেত্রেই সামনে আনা হচ্ছে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এ রাজ্য সহ অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির হয়ে ভোট প্রচারে যেই যান না কেন সবাই আঙুল তুলে দেখাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদিকে।

২০১১ সালে এ রাজ্যে যখন ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল দল তার প্রধান মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয় বারের সরকার গড়ার সময়ও সেই মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করতে রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেরাচ্ছেন। ভোট চাইছেন নিজেকে দেখিয়ে। তৃণমূলের হয়ে যে যেখানেই ভোটে লড়ুন না কেন মনে করতে হবে ভোট পড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে।

কিন্তু সেটা হয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই মানানসই। কারণ, জাতীয় দলের থেকে সরে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা দল গড়েছিলেন। বছরের পর বছর ধরে একার কাঁধে দল বয়ে নিয়ে রাজ্যে তৃতীয় বার সরকার গড়তে লড়াই করছেন।

কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টী বা বিজেপি দল আজকের নয়। ১৯৫১ সালে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির হাত ধরে যে দলের উথ্থান, একাধিক তাবড় নেতৃত্বের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে যে দলের সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছে সেই দলের মুখ এখন মাত্র একজন?  শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদি?  রাম নাম নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে?

লালকৃষ্ণ আদবানি, অটলবিহারী বাজপেয়ীদের কাজ, কৃতিত্ব ভারতের ইতিহাস কোনও দিন ভুলবে না। কিন্তু বর্তমান নেতাদের মুখে তাঁদের আদর্শের কথা শোনা যায় কোথায়? এমনকী ভোটের ব্যানার বা পোস্টারেও তাঁদের ছবি থাকে না। সেখানেও থাকে শুধুমাত্র নরেন্দ্র মোদি বা রাজনাথ সিং বা অমিত শাহর ছবি।

বিজেপি দলটা যেন এসে ঠেকেছে তিনজনে। নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিং, অমিত শাহ ছাড়া আর কাউকেই দেখা যায় না। সমস্ত আলো যেন শুধুমাত্র নিজেরা নিয়েই বসে আছেন।

গান্ধিনগর, গুজরাটের এই কেন্দ্র একপ্রকার বিজেপির গড়। লালকৃষ্ণ আদবানি ছবার এই কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন। ২০১৪ সালেও এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন আদবানিজি। এবার এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন অমিত শাহ। অথচ একবারও প্রচারে অমিত শাহর সঙ্গে লালকৃষ্ণ আদবানিকে দেখা যায়নি। দেখা যায়নি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও।       

সরকার কী নরেন্দ্র মোদির একার?  নাকি তিনি একা তৈরি করেছেন ? তাঁকে মই দিয়ে উপরে তুলে দিয়ে নিচে দাঁড়িয়ে যেন হাততালি দিচ্ছেন দুজন মানুষ, রাজনাথ সিং ও অমিত শাহ। 

যে নেতৃত্ব পুরনো নেতৃত্বের কথা স্বীকার করতে ভুলে যান দেশ তাঁদের মনে রাখবে তো? নাকি সত্যি ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’ কষবে কড়া করে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here