এখনও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে বুঁদ বামেরা !

0
247

অন্তরা দাস

রাজ্যে ৪২টি আসন। কিন্তু  একেবারে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে বামেদের। ভোট শতাংশের হারেও ৬ পেয়ে একেবারে তলানিতে বামেরা। কিন্তু এখনও চোখে স্বপ্ন আছে। ওঁরা স্বপ্ন দেখেন আবার একদিন এই বাংলায় লাল ঝান্ডা উড়বে। মানুষের বিশ্বাস তাঁদের প্রতি আবার ফিরবে।

গতবার রায়গঞ্জ ও মুর্শিদাবাদ এই দুই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল কাস্তে-হাতুড়ি। বাংলার দুই বামপ্রার্থী আলোকিত করেছিলেন সংসদ। রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে মহম্মদ সেলিম এবং মুর্শিদাবাদ থেকে বদরুদ্দোজা খান।

২০১৯এ বাংলা থেকে বামেদের কোনও প্রতিনিধিই রইলেন না।  তবে এতেও হাল ছাড়ছেন না বামেরা। তাঁদের আশা, এখন না হোক দশ বছর পরেও ঘুরে দাঁড়াবে দল।

এ রাজ্যে টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড গড়েছিল বামফ্রন্ট। স্বাধীনতার পরে দেশের একাধিক নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বামেরা।

পশ্চিমবঙ্গে তো টানা ক্ষমতায়ও ছিল। সেখান থেকে এক ধাক্কায় জিরো হয়ে যাওয়ায় হতাশ বাম কর্মী-সমর্থকরা। তবে হাল ছাড়তে নারাজ দলীয় নেতৃত্ব।

লোকসভা নির্বাচনে দলের শোচনীয় হারে শিক্ষা নিয়েছেন বামফ্রন্টের নেতারা। ভুল শুধরে কীভাবে ফিরে আসা যায়, চলছে তারই পরিকল্পনা।

২০২১এর বিধানসভা নির্বাচনে ফের স্বমহিমায় ফিরে আসার প্রস্তুতিও নিতে শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা।

একেবারে শূন্য কেন? কী কারণে বামেদের এই ভরাডুবি? এই প্রশ্নও কিন্তু ঘোরাফেরা করছে রাজনীতির অন্দরে।

বাম নেতৃত্বের দাবি, গোটা দেশের পাশাপাশি এ রাজ্যেও মেরুকরণ হয়েছে। তাছাড়া ছাপ্পা ভোট, বুথ দখলের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বাইপোলার পলিটিক্সের দিকে এগোচ্ছে। এখানে তৃণমূলের কোনও জায়গা নেই। একদিকে বাম ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি, আর অন্য দিকে বিজেপি এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি।

আরও পড়ুন

বাঁকুড়ায় বামফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন অমিয় পাত্র। তাঁর কথায়, ২০১১ সালের পর থেকে নানাভাবে তৃণমূলের দ্বারা অত্যাচারিত মানুষ তৃণমূলের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছিলেন।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর মানুষ এটা বুঝতে পেরেছেন, যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে স্বচ্ছ ভোট হবে না।

মিডিয়ার লাগাতার প্রচারে মানুষ এটা বুঝেছিলেন, হয় মুখ বুজে তৃণমূলকে সহ্য করো, নয়তো তৃণমূলকে উৎখাত করতে বিজেপির হাত ধরো।

তাঁর দাবি, এই কারণেই এত আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি। তবে মানুষ একেবারেই তাঁদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন, বিশ্বাস করেন না অমিয়।

আসানসোলের সিপিএম নেতা গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ফের বামেরা ক্ষমতায় আসবে। বামেরা সংগঠিত দল। তাই আবারও ঘুরে দাঁড়বে।

গৌরাঙ্গ বলেন, তৃণমূল দল নয়, দঙ্গল।  বিভিন্ন দল থেকে সরে এসে মানুষ যেমন এখানে যোগ দিয়েছিলেন, তেমনই বিজেপি আসায় এই দঙ্গলও ভাঙবে। তাঁর বিশ্বাস, মানুষই একদিন বামেদের ক্ষমতায় আনবেন।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সামনের বিধানসভা নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না বামেরা। ক্ষমতায় থাকার সময় বাম কর্মী-সমর্থকরা যে অত্যাচার করেছিল, মানুষ তা ভুলে যায়নি।

ছাপ্পা ভোট, বুথ দখল, জোর করে জমির ধান কেটে নেওয়া, জমি দখলের মতো নানা কাজেও বাম কর্মী-সমর্থকদের নাম জড়িয়ে গিয়েছিল। সেই কারণেই ২০১১ সালে বামেদের হঠিয়ে রাজ্যের কুর্সিতে আসে তৃণমূল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here