দ্য পিপল ডেস্কঃ আজ মহাষ্টমী। কথিত আছে মা দুর্গার সবচেয়ে প্রিয় তিখি অষ্টমী। এই দিনেই অসুর বধ করে অসুরবিনাশিনী হিসাবে পুজিত হন দেবী।অষ্টমীতিথির বিদায় আর নবমী তিথির আগমনে দেবী আবির্ভুতা হন দেবী চামুন্ডারূপে। পুরাণমতে চন্ড এবং মুন্ড নামক দুই ভয়ানক অসুরকে তিনি এই সন্ধিক্ষণে বধ করেছিলেন। আশ্বিনের শুক্লাষ্টমীর বিশেষ এই মাহেন্দ্রক্ষণে দেবী দুর্গার সন্ধিপুজো হয়।

সন্ধি কথার অর্থ মিলন। অষ্টমী ও নবমীর মিলন তিথিতেই সন্ধিপুজো হয়।

অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির শুরুর ২৪ মিনিট, মোট ৪৮ মিনিটের মধ্যে সাঙ্গ করতে হয় এই সন্ধিপুজো।

এ বছর সন্ধি পুজোর সময় – অষ্টমীর দুপুর ১ টা ৫৭ মিনিট থেকে দুপুর ২ টো ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

সন্ধিপুজো -র মাহাত্ম্যঃ

পুরাণ অনুসারে এই বিশেষ মিলন তিথিতে অসুরদের সঙ্গে যুদ্ধের সময়ে দেবী অম্বিকার কপালে থাকা তৃতীয় নেত্র থেকে দেবী কালিকা প্রকট হয়েছিলেন।

আবার অন্যত্র বলা হয়েছে যে, পরাক্রমী অসুর রক্তবীজের সমস্ত রক্ত এই সন্ধি মুহূর্তেই দেবী চামুণ্ডা কালিকা খেয়ে ফেলেছিলেন।

কথিত আছে, এই সন্ধিক্ষণ চলাকালীন মা দুর্গার অন্তর থেকে সমস্ত স্নেহ, মমতা অদৃশ্য হয়ে যায়।

সেই কারণেই সন্ধি পুজোর সময়ে দেবীর দৃষ্টি পথ পরিষ্কার রাখা হয়। চামুণ্ডা দুর্গার চোখের সামনে দাঁড়াতে নেই।

অনেক জায়গায় সন্ধিপুজোতে বলি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বহু জায়গায় ছাগ বলি হয়ে থাকলেও কলা, আখ, চালকুমড়ো ইত্যাদিও বলি দেওয়া যায়।

বলিদান অষ্টমী তিথিতে নয়, সন্ধি পুজোর প্রথম ২৪ মিনিট পার হওয়ার পরেই হয়।

সন্ধি পুজোর সময়েই দেবী মহামায়া মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী রূপে আসেন ও ভক্তের পুজো গ্রহণ করেন।

১০৮ প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনা করতে হয় যাতে দেবী সংসারের সব আঁধার মোচন করেন। সেই সঙ্গে দেবীর চরণে নিবেদন করা হয় ১০৮ টি লালপদ্ম।

সন্ধিপুজোতে লালপদ্ম কেন উৎসর্গ করা হয়ঃ

কৃত্তিবাসের রামায়ণে উল্লিখিত আছে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার জন্য আশ্বিনমাসে রামচন্দ্র অকালবোধন করেছিলেন।

সেই থেকেই শুরু হয় আশ্বিনমাসের শুক্লাপক্ষে দেবী আরাধনা।

রামায়ণে আরও উল্লিখিত আছে, রামচন্দ্র সন্ধিপূজা শেষে দেবীর চরণে ১০৮ পদ্ম নিবেদন করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ভক্ত হনুমানকে আদেশ দেন দেবীদহ থেকে ১০৮টি পদ্মফুল তুলে আনার। হনুমান ১০৭টি পদ্ম পান। দেবীদহে একটি পদ্ম কম ছিল।

তার কারণ হিসেবে কথিত আছে , দীর্ঘদিন অসুর নিধন যজ্ঞে মা দুর্গার ক্ষত বিক্ষত দেহের অসহ্য জ্বালা দেখে মহাদেব কাতর হন।

মায়ের সারা শরীরে একশো আটটি স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। মহাদেব তাঁকে দেবীদহে স্নান করতে বললেন সেই জ্বালা জুড়ানোর জন্য।

দেবীদহে মায়ের অবতরণে একশো সাতটি ক্ষত থেকে সৃষ্টি হয়েছিল একশো সাতটি পদ্মের।

মহাদেব দুর্গার এই জ্বালা সহ্য করতে না পারায় তাঁর চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু নিক্ষিপ্ত হয় মায়ের একশো আটতম ক্ষতের ওপর।

দেবীদহে স্নানকালে সেই অশ্রুসিক্ত ক্ষতটির থেকে যে পদ্মটি জন্ম নিয়েছিল সেটি মা নিজে হরণ করেছিলেন।

কারণ স্বামীর অশ্রুসিক্ত পদ্মফুলটি তিনি চরণে নিতে পারবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here