দ্য পিপল ডেস্কঃ জমিদারি প্রথা লুপ্ত হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ফিকে হয়েছে জৌলুস, কোথাও বন্ধ হয়ে গেছে দুর্গাপুজো। আবার কোথাও তা পরিণত হয়েছে বারোয়ারি পুজোতে। আবার কোথাও জমিদারের বংশধররা সাধ্যমতোই দেবীর আরাধনায় মাতেন।

যেমন বহরমপুরের কুঞ্জঘাটা রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। জমিদারি আধিপত্য আজ আর কিছুমাত্র বজায় না থাকলেও ফি বছর দেবী আসেন নিয়ম মেনেই। জমিদারের বর্তমান প্রজন্ম তাঁদের সাধ্যমতো আয়োজন করেন।

জানা যায়, বহরমপুরের কুঞ্জঘাটা রাজবাড়ির দুর্গাপুজো তিনশো বছরের পুরনো। ১৬৬৫ সালে বীরভূমের ভদ্রপুরে এই পুজোর শুরু। পুজো শুরু করেন ভদ্রনগর রায়।

পরে মীরজাফরে আমলে বীরভূম থেকে বহরমপুরে চলে যান জমিদারবাড়ির সদস্যরা। সেই থেকে পুজো শুরু হয় বহরমপুরের কুঞ্জঘাটায়।

তবে যেহেতু পুজোর সূচনা হয় বীরভূমের ভদ্রপুরে, তাই আজও ভদ্রপুর থেকেই বহরমপুরে আসে দেবী প্রতিমার কাঠামো।

এই পুজোর বিশেষত্ব হল দশমীর দিন সকালে ওড়ানো হতো নীলকন্ঠ পাখি। দেবী বরণের পরে ময়ূরপঙ্খী নৌকায় করে দেবীকে ভ্রমণ করানো হতো দামোদর নদীতে। তার পর হতো নিরঞ্জন।

জানা যায়, এই দেবী খুব জাগ্রত। মানুষকে নানা বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন। মানুষের প্রার্থনাও শোনেন দেবী। তাই এখানকার মানুষজনেরা আজও এই দেবীকে সবার আগে  দর্শন করে তর পর অন্যত্র প্রতিমা দর্শনে যান।

তাছাড়া, নাচ-গান, খাওয়াদাওয়া, নানা উপচারে দেবীর ভোগ, পাত পেড়ে প্রজাদের খাওয়া সেসব তো ছিলই।

বর্তমানে সেসব আর নেই। তবে পরিবারের পরম্পরা মেনে পুজো চলছে।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here