দ্য পিপল ডেস্কঃ আজ মহাসপ্তমী। প্রতীক্ষার অবসান। উমা এল ঘরে। ঘরের মেয়েক বরণ করে বাঙালি নেমে পড়েছে পথে। প্যান্ডেল হপিং, খাওয়াদাওয়া, দেদার মজায় মেতেছে আট থেকে আশি।

মহাসপ্তমীর পুণ্যলগ্নে কলাবউ স্নান করিয়ে নিয়ে এলেন পুরোহিত। ঘরে ঘরে বেজে উঠল মঙ্গল শঙ্খ। দেওয়ালে সিঁদুরের টিকা দিয়ে এয়ো স্ত্রীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিলেন বাঙালি বধূ। মাথায় ঘোমটা দিয়ে সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে দাঁড়িয়ে পড়েছেন কলাবউ। শাস্ত্রের ভাষায় নবপত্রিকা। দুর্গাপুজো যে শস্যের আরাধনা, নবপত্রিকা পুজোই তার প্রমাণ।

কলাগাছের সঙ্গে রয়েছে আরও আটটি লতা-গাছ এসবই এক সময় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল বাঙালির জীবনের সঙ্গে। তার মধ্যে আছে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, ধান, কলা, অশোক, ডালিম, মান আর এই সব কিছু এক সঙ্গে বাঁধার জন্য থাকে শ্বেত অপরাজিতার লতা। হার না মানা এই জাতিটাই পুজো করে অপরাজিতার। আর থাকে বেল।

এমনই আরও সাতটি উদ্ভিদের পুজো করেন ধর্মপ্রাণ বাঙালি। আসলে প্রকৃতির মধ্যেই শক্তিকে খুঁজে চলেছেন উপনিষদের ঋষি। তাই নবপত্রিকা পুজো। মাটির প্রতিমা সপ্তমীতে প্রাণ পেয়ে হয়ে যান ঘরের মেয়ে।

এই ঘরের মেয়েকে নানা সাজে দেখতেই সকাল থেকে পথে নেমেছে বাঙালি। স্বামীর হাত ধরে মণ্ডপে হাজির নব পরিণীতা। পরিবারের সদস্যকে আঙুল উঁচিয়ে সিংহ দেখাচ্ছেন কোনো নতুন মা।

চোখাচোখি হয়ে যাচ্ছে কোনো অনুরাগীর। মন রঙিন করা মেয়েটিকে নিয়ে ভিড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে দেখতে নীল নির্জনে চলে যেতে চাইছে কোনো সদ্য যুবা। বাবার হাত ধরে গ্রাম ছাড়িয়ে শহরে এসে কলকাতার কোনো মণ্ডপে এসে অবাক বিস্ময়ে ঠাকুর দেখছে কোনো অখ্যাত গাঁয়ের কিশোর বা কিশোরী।

তবো পুজোর টুকরো আনন্দেও অসুর রূপে ধরা দিচ্ছে বৃষ্টি। আছে আরও বিষাদের ছবি। বানের জলে ভেসে গেছে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের অনেক গ্রাম। জলের তোড়ে ভেসে গেছে শিউলি ভরা উঠোন, হয়তো পুজোয় কেনা নতুন শাড়ি বা বাচ্চার পোশাকটাও। ত্রাণ শিবিরের অস্থায়ী ছাউনিতে প্রাণপনে লড়ছেন কোনো মা, কোনো স্ত্রী। বান-অসুরের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন কোনো এক গাঁয়ের বধূ।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here