||গৌতম ভট্টাচার্য||

বাড়ি ফিরে গিয়েছেন উমা। দীপাবলি ছাড়া সামনে আর তেমন কোনও বড় উতসবও নেই।তাই এবার বঙ্গ জয়ে কোমর কষে নামছে বিজেপি। পদ্মশিবির সূত্রের খবর, পাখির চোখ যেহেতু ২০২১এর বিধানসভা নির্বাচন, সেহেতু এখন থেকেই সলতে পাকানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে মোদি-অমিত শাহের দল।এজন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর।

লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্যে ১৮টি আসন পেয়েছে বিজেপি। একটি লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে সাতটি করে বিধানসভা। সেই হিসেবে ১২৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে পদ্ম শিবির। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ, এই ১২৬টি আসনে দলের জয় নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য ওই কেন্দ্রগুলিতে মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে।

সরকার গড়তে প্রয়োজন দেড়শোর মতো আসন। ১২৬টি গেরুয়া ঝুলিতে চলে এলে প্রয়োজন আরও ২৪টি আসনের। বিজেপি সূত্রের খবর, সেসব আসনে অতি অল্প ভোটের মার্জিনে জয় পেয়েছে তৃণমূল, সেগুলি দখলে ঝাঁপাতে হবে দলীয় নেতৃত্বকে। এজন্য এলাকায় লাগাতার প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের জনমোহিনী প্রকল্পগুলি সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করার নির্দেশ দিয়েছেন পদ্ম নেতারা। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করা এবং বিভিন্ন দেশে মোদির তুঙ্গ জনপ্রিয়তা এসবই ফলাও করে প্রচার করতে হবে।

শুধু তাই নয়, সিপিএমের কায়দায় পার্টি ক্লাসও চালু করতে চলেছে বিজেপি। কোনও একটি জায়গায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের নিয়ে বসবে ক্লাস। সেখানে দলীয় আদর্শ এবং কর্মীদের কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে।ক্লাস নেবেন দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব।কবে এবং কোথায় ক্লাস হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে সময়ে সময়ে।

শুধু তাই নয়, প্রচারের পালে লাগাতার হাওয়া দিতে বছরভর জনসভাও করবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রের খবর, দলের যেসব নেতার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, মূলত তাঁরাই প্রচারে আসবেন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে। প্রচারে আসবেন অমিত শাহও। তবে আপাতত খুব বেশি বার প্রচারে আসবেন না তিনি।তাঁর জায়গায় প্রচারে আসবেন দলের অন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এখন দেখার, বঙ্গ জয়ে সফল হয় কিনা পদ্মশিবির!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here