দ্য পিপল ডেস্কঃ আজ ষষ্ঠী, দেবীদুর্গার বোধন। আনন্দের পাঁচদিনের প্রথমদিন।

নিয়মানুযায়ী, বোধনে পুজো হয় দুর্গারই এর রূপ দেবী ষষ্ঠীর। এক সময় ছেলেমেয়ে নিয়ে বাঙালিকে ঘর করতে হত মারী ও অরির সঙ্গে। এদের থেকে রক্ষা পেতে শুরু হয় দুর্গারই আর এক রূপ দেবী ষষ্ঠীর পুজো।

তবে এখন আর বোধনের জন্য অপেক্ষা করে না বাঙালি। মাত্র পাঁচদিনে আর কী হয়.. তৃতীয়া বা চতুর্থী থেকেই শুরু হয়ে যায় ঠাকুর দেখা আর সেজেগুজে প্যান্ডেল হোপিং।

একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন রসদ খুঁজে নিতে ষষ্ঠীর সকালেই ভিড় বেড়েছে বাসে, ট্রেনে। সেজেগুজে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরছে ঠাকুর দেখতে, অনভ্যস্ত হাতে শাড়ির আঁচল সামলাচ্ছে কোনো তরুণী।

আবার কেউ নিজের প্রিয়জনের সঙ্গে একান্তে মুহূর্ত কাটাতে আর তা মোবাইলবন্দী করতে মন দিয়েছে সেলফিতে। কেউ বা জিনসের সঙ্গে পাটভাঙা পাঞ্জবী পড়ে মিশে গেছে তরুণদের দলে।

তবে এত আলোর মধ্যেও কোথাও কোথাও অন্ধকার রয়েই গেছে। বোধনের আগেই বিসর্জনের সুর বেজে উঠেছে। এরাজ্যের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। শুধু এরাজ্য কেন পড়শী রাজ্য বিহার বন্যায় প্লাবনের মুখে।

কোথাও বসবাড়ি, কোথাও চাষের জমি গেছে জলের তলায়। নতুন জামা, জুতো, শিউলির গন্ধের বদলে সেখানে শুধুই আতঙ্ক। পুজোর আগে বাসভাসী হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া।

উৎসবের দিনেও ওদের কাটাতে হবে কোনো ত্রাণশিবিরের ত্রিপলের ছাউনিতে। খিদে সহ্য করেই মা দুর্গা অন্ন তুলে দেবেন সন্তানের মুখে।

আবার দূরে দূরে কোথাও থিমের পুজোয়, আলোর রোশনাইয়ে মেতে ওঠে আমবাঙালি। যতটুকু পারা যায় চেটেপুটে নেওয়া আনন্দের স্বাদ।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here