||শুভজিত চক্রবর্তী||

জনসংযোগ বাড়াতে এবার গাড়ি ছেড়ে সাইকেলে ঘুরছেন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের তৃণমূল নেতারা। পরছেন নীল পাঞ্জাবীর সঙ্গে সাদা পাজামা। ঘাসফুল শিবিরের এই ভোলবদল দেখে মুচকি হাসছেন বিরোধীরা।

ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন মান্নানের ছেলে সৌমিক হোসেন। কালো রংয়ের স্করপিও চড়ে তিনি পুরসভায় যেতেন। তাঁর গাড়ির পিছনে পিছনে যেত আরও কয়েকটি কালো গাড়ি। কাচ ঢাকা গাড়িতে চেয়ারম্যান চলে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে দেখা হলেও সমস্যার কথা তাঁকে জানাতে পারতেন না আমআদমি। এনিয়ে ক্ষোভ ছিলই। তার জেরেই সরতে হয়েছে সৌমিককে। নয়া চেয়ারম্যান হয়েছেন জাফিকুল ইসলাম

তৃণমূল সূত্রের খবর, সৌমিক চেয়ারম্যান থাকাকালীন ডোমকলে একাধিক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। জনতার সঙ্গে হাতে গোণা কয়েকজন কাউন্সিলর ছাড়া আর কারও তেমন সম্পর্ক বিশেষ ছিল না। অভিষেক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় দলের কেউই তাঁকে ঘাঁটাতেন না। সৌমিক চলতেন নিজের মর্জি মাফিক।  

লোকসভা নির্বাচনের কিছু আগে মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারীকে দলের জেলা পর্যবেক্ষক করে পাঠান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সৌমিকের বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর লোকজন ভিড়ে যান শুভেন্দু লবিতে। এর পরেই মূলত সৌমিককে সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। তাঁর জায়গায় বসানো হয় শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ জাফিকুলকে। এর পরেই ডোমকলবাসী দেখেন, রাস্তা জুড়ে কেবলই নীল-সাদার মেলা। কাউন্সিলর ও দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশও নীল পাঞ্জাবী-সাদা পাজামা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।গাড়ি ছেড়ে চড়ছেন সাইকেল। এভাবেই ইউনিফর্ম পরিহিত হয়ে তাঁরা পালন করছেন দিদিকে বলো কর্মসূচি।   

সৌমিকের আচরণে যে শহরবাসী ক্ষুব্ধ তা স্বীকার করে নিয়েছেন জাফিকুল। তিনি বলেন, আমাদের প্রাক্তন চেয়ারম্যানের নানা আচরণে ডোমকলবাসী ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত। আমরা আর সেটা হতে দেব না। মানুষের পাশে থেকেই তাঁদের জন্য কাজ করব। সেটাই শুরু করেছি।

তৃণমূলের এই ভোল বদলেই মুচকি হাসছেন বিরোধীরা। বিজেপির এক নেতা বলেন, কিছুটা দেরিতে হলেও তৃণমূল নেতারা তাঁদের ভুল বুঝেছেন। এতে আখেরে লাভ হবে শহরবাসীরই। ডোমকলের বাসিন্দারাও বলছেন, এতদিন কোনও সমস্যা হলে চেয়ারম্যানকে বলতে পারতাম না। কাচে ঢাকা গাড়ি চড়ে তিনি চলে যেতেন। নেতারা সাইকেলে চড়ায় এবার অন্তত সমস্যার কথাগুলো তাঁদের বলা যাবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here