দ্য পিপল ডেস্কঃ আজ মহা নবমী। রাত পোহালেই দশমী। মর্ত্য ছেড়ে উমা রওনা দেবেন স্বর্গে উদ্দেশে, ফিরবেন কৈলাশে স্বামীর গৃহে। পাথেয় হিসেবে দেবীকে দেওয়া হবে দক্ষিণা।

উমা চলে গেলে পড়ে রইবে পুজোর সব উপাদান- ঘট, ফুল আরও কত কী। যেমন পড়ে থাকে দেহ, আত্মা চলে যায় মহামুক্তির সন্ধানে।

পড়ে থাকবে বাঙালির কত স্মৃতি, কত আনন্দ, কত খুশির মুহূর্ত। অথচ এই উমাকে ধরে রাখতে কত কী না করেছে বাঙালি। নিবেদন করেছে উমার প্রিয় কত খাবার।

ফুল-ধূপের সুবাস ছড়িয়ে ধরে রাখতে চেয়েছে দেবতার আত্মাকে। বেলপাতা-ফুলের আড়ালে অঞ্জলি দিয়েছে অন্তরের অর্ঘ্য।     

বছরের এই কয়েকটা দিন আনন্দের জোয়ারে ভাসবে বলে যুগ যুগ ধরে বাঙালি আনন্দময়ীর আরাধনা করে আসছে। একই ফ্রেমে বন্দি করতে চেয়েছে স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখী কন্যার ফিল গুড স্টোরি।

তাই দেবীর সঙ্গে আসেন লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক ও সরস্বতী। আলাদা আলাদা পুজোর রীতি থাকলেও মায়ের পাশাপাশি পূজিত হন দুর্গার সন্তানরাও।

রজঃ গুণে মহালক্ষ্মী, সত্ত্ব গুণে সরস্বতীর পুজো হয়। সমাজ-সংসার বাঁচাতে দেব সেনাপতি কার্তিক ও সকল বিষয়ে সিদ্ধি লাভ করতে সিদ্ধিদাতা গণেশের বন্দনা হয়।

আগুন সভ্যতার প্রতীক। নবমীতেও হোমাগ্নি জ্বলেছে সিংহভাগ মণ্ডপে বা বাড়ির পুজোয়। দেবীপুজোর মাধ্যমে বাঙালি যেন আরও একবার স্মরণ করে নেন সভ্যতার প্রতীককে।

অন্তরের যা কিছু কালো, যা কিছু অন্ধকার সেই সব কিছুকে হোমের পূতাগ্নির মধ্যে আহুতি দিয়ে ঈশ্বরকে খুঁজে নেন ধর্মপ্রাণ বাঙালি। স্বাভাবিক। তাঁর দর্শনই যে প্যানথিইজম। সবেতেই ঈশ্বর দর্শন যে বাঙালির মজ্জাগত।  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here