||নয়ন রায় ||

আমাদের WHATSAPP গ্রুপে যুক্ত হতে ক্লিক করুন: Whatsapp

ডিম মহার্ঘ। দলের অবস্থাও বিশেষ ভালো নয়। তাই এবার ২১ এর সমাবেশে আগত দলীয় কর্মীদের সিংহভাগের পাতেই ডিম নেই। বুড়ো বাঁধাকপি দিয়েই চলছে দলীয় কর্মীদের মধ্যাহ্ন ভোজ। এতেই জমছে ক্ষোভ। যদিও নেতৃ্ত্বের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই।

ব্রিগেড সমাবেশে ডিম কালচার শুরু হয়েছিল বাম জমানায়। কত ডিম খরচ হয়েছে, তা থেকেই বোঝা যেত কোন বার কত লোক সমাবেশে এসেছেন। পালাবদলের কয়েক বছর পর ডিম কালচার শুরু করে তৃণমূলও। এবং সেটাও ওই মাথা গুণতির উদ্দেশ্যেই। তবে এবারই প্রথম, তৃণমূলের বেশ কিছু শিবিরে ব্যবস্থা নেই ডিমের। ভাত-ডালের সঙ্গে রয়েছে বুড়ো বাঁধাকপির চচ্চড়ি!

কী কারণে পেটে টান দলীয় কর্মীদের? তৃণমূল নেতাদের একাংশের মতে, লোকসভা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট দলের হাল শোচনীয়।বিভিন্ন জেলায় সংগঠনেও ধরেছে ঘূণ। তার ওপর একের পর এক নেতা দল ছেড়ে ভিড়ছেন বিজেপি শিবিরে। যার জেরে মনমরা দলীয় নেতৃত্ব।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচন। তারও আগে রয়েছে বেশ কয়েকটি পুরসভার নির্বাচন।বিজেপি জুজু চাপে রেখেছে দলকে। কে কবে দল ছেড়ে দিল্লি উড়ে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন, তার ঠিক নেই! দলকে চাঙা করতে ইলেকশন স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি নিয়মিত পরামর্শও দিচ্ছেন। তার পরেও অবশ্য স্বস্তিতে নেই তৃণমূল নেতৃত্ব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এসবেরই ছাপ পড়েছে এবারের সমাবেশে।

গত বছরও ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। পথসভা, মিটিং, মিছিল সবই হয়েছিল। এবার সেসব নেই। কোথাও কোথাও হাতে গোণা কয়েকটি পদযাত্রা-মিটিং-মিছিল যে একেবারেই হয়নি, তা নয়। তবে গেলবারের মতো উন্মাদনাটাই এবার উধাও। সেই কারণে এবার ব্রিগেড ভরবে কিনা, তা নিয়ে চিন্তিত দলের শীর্ষ নেতৃ্ত্বের একাংশও।

তৃণমূল কর্মীদের একটি অংশের মতে, দল যেন এবার অনেকটা ছন্নছাড়া। দলের সেই ছন্নছাড়া দশার ছবি ধরা পড়েছে খাবারের পাতেও।

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দলীয় কর্মীদের থাকার জন্য যে কটি শিবির হয়েছে, সেখানেও তেমন ভিড় নেই। যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কতজনের ভোট ঘাসফুলে পড়েছে, আর কতজনই বা কলকাতা দেখতে এসেছেন, তা নিয়ে সন্দিহান দলীয় নেতৃত্বও।

তবে এঁদের জন্য কেন ডিমের ব্যবস্থা করা হয়নি সব শিবিরে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। বুড়ো বাঁধাকপির চচ্চড়ি খাইয়ে এঁদের ভুলিয়ে রাখা যাবে তো?

বিপদকালে কি তবে বুদ্ধিনাশ হল তৃণমূলের!