দ্য পিপল ডেস্কঃ বিষাদকেও যে উজ্জাপন করা যায়, তা বাঙালিদের কাছ থেকেই শিখতে হয়। মা আসছেন থেকে মায়ের জলে যাওয়া পর্যন্ত ফাটিয়ে নেচে, মিস্টিমুখ করে এবং করিয়ে বাঙালি বিদায় দেয় প্রিয় উমাকে।  

দুর্গা ভাসানের সময় সিঁদুর খেলা ও মিষ্টিমুখ বহুকাল ধরে চলে আসা রীতি। দশমী পুজোর পর থেকেই একে অপরকে বলতে শোনা যায়, শুভ বিজয়া।  

কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কী কোনো আত্মীয় যখন আমাদের বাড়ি থেকে চলে যান তখন আমরা কেউ আনন্দে মিস্টিমুখ করি?

না। তাহলে দেবী দলে যাওয়ার সময় কেন তাঁকে মিস্টিমুখ করানোর পাশাপাশি আমরা নিজেরাও একে অপরকে মিস্টিমুখ করাই?

অনেককেই বলতে শোনা যায়, ভালো করে দেখো বিদায়বেলায় মায়ের মুখটাও কেমন ভারি হয়ে আছে। তবে কেন মায়ের বিদায়বেলাতেও আমরা খুশি হই?

পুরাণ মতে, অকালবোধনের সময় অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণ অর্থাৎ সন্ধিপুজোর সময়ের পর দেবীর বিশেষ কৃপায় যুদ্ধে জয়ী হতে সমর্থ হন রামচন্দ্র। অর্থাত্ রামচন্দ্র বিজয়ী হন।

আবার, মহিষাসুরকে বধের জন্য দেবী দুর্গাকে সৃষ্টি করেন স্বর্গের দেবতারা। মহষাসুরকে বধ করে দেবীও হন বিজয়ী।

তাই সেই খুশি বা আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আজও একে অপরকে শুভ বিজয়া জানানোর প্রথা চলে আসছে বাঙালিদের মধ্যে।

আসলে সেই রামও নেই, রাম রাজত্বও নেই। দেবী দুর্গা এখন মহিষাসুরমর্দিনী থেকেও বাঙালির ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছেন। তাই দুষ্টের দমন নয়, দুর্গা মানে নতুন জামা আরও নানা রকম আনন্দের বাতাবরণ।

তাছাড়া মায়ের চলে যাওয়া তো আর চলে যাওয়া নয়, সে তো আরও এক আবাহনেরই প্রস্তুতি। কারণ আসছে বছর আবার হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here