।। নয়ন রায় ।।

পায়ে পায়ে বচ্ছর পেরিয়ে চলে এলাম আমরা। আমরা মানে, টিম পিপল টিভি। দু চোখে স্বপ্ন আর পাঠকের ভালোবাসা পাথেয় করেই আমরা পেরিয়ে এসেছি এতটা পথ। হাঁটতে হবে আরও। কবি বলেছিলেন না, ‘And miles to go before I sleep, and miles to go…’।

এক বছর আগের এই দিনে পৃথিবীর আলো দেখেছিল পিপল টিভি। পাটুলির একটা ছোট্ট চায়ের দোকানে বসে তরতাজা দুই তরুণ-তরুণীকে নিয়ে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলাম, সেটায় আজ এসেছে কিশলয়।মহীরূহ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেখ আমি বাড়ছি মাম্মি। 

এজন্য অবশ্য ভাঙতে হয়েছে বহু চড়াই উতরাই। প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে। এজন্য নিদারুন কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে একঝাঁক তরুণ সাংবাদিককে।প্রতিদিন সকালে যারা বের হত খবরের সন্ধানে, সন্ধেয় ফিরত একবুক হতাশা নিয়ে। অচেনা একটা পোর্টালের সাংবাদিককে কে আর সময় নষ্ট করে সাক্ষাতকার দেবেন!

এই হতাশার মধ্যেও দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গিয়েছে  আমার সহকর্মীরা।এখনও লড়ে যাচ্ছে। এদের পাওয়ার ছিল অনেক কিছুই। দিতে পারিনি কিছুই। তাতে অবশ্য খেদ নেই এদের। কেবল খবর ভালোবেসেই খবর করে চলেছে এরা।এই তরুণ সাংবাদিকদের দান ভুলি কী করে!

আর্থিক সমস্যার মধ্যেও আমরা খবর করে চলেছি নিয়মিত। এজন্য কখনো বাঁকিয়ে ফেলিনি মেরুদণ্ড। খবরের ক্ষেত্রে আমরা চলতি হাওয়ার পন্থী নই, আমরা হেঁটেছি স্রোতের বিপরীতে। এজন্য লড়তে হয়েছে বিস্তর। তার পরেও হাল ছাড়িনি। খবর করেছি প্রকৃত খবরওয়ালার মতোই। সেই কারণেই একদিকে যেমন অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছি শাসক কিংবা বিরোধী দলের, তেমনি ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন আমাদের পাঠকরা।

মানুষের এই ভালোবাসাই অক্সিজেন জুগিয়ে চলেছে আমাদের। সেই কারণেই আমরা পেরিয়ে চলেছি দুস্তর পারাবার।জানি লড়াইটা কঠিন, তবে তাতে কী!লড়াই করে যুদ্ধ জয়ে যে আনন্দ, তা আর মেলে কোথায়!

গত এক বছরে সরকার কিংবা বিরোধীদের নানা কাজের সমালোচনা করেছি আমরা। আদর্শ সাংবাদিকের ধর্ম মেনেই এটা করেছি। কাউকে আঘাত করতে চাইনি। শুধু চেয়েছি, সরকার কিংবা বিরোধী দল কেউ যেন তার ধর্ম থেকে তিলেক বিচ্যুত হয়। সরকারের সমালোচনা করে যেমন আরও ভালো একটা সরকার উপহার দিতে চেয়েছি রাজ্যবাসীকে, তেমনি বিরোধীদের সমালোচনা করেও বোঝাতে চেয়েছি, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকাটা ঠিক কেমন হওয়া উচিত! পেরেছি কিনা, তা বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম বঙ্গবাসীর হাতে।

একটা পোর্টালের জীবনে একটি বছর কিছুই নয়।সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনও বিজ্ঞাপণ ছাড়াই কতদিন চলতে হবে, তাও জানি না। শুধু জানি, জীবনের এই কঠিন লড়াইটা আমাদের জিততেই হবে। ঝড়-ঝাপটা সয়েও হাঁটতে হবে টালমাটাল পায়ে। অনেকটা পথ যে এখনও চলা বাকি! তবে এই রাস্তাটাও আমরা পেরিয়ে যাব অনায়াসে। কারণ, আমরা জানি, একদিন ঝড় থেমে যাবে, আমরাও পরিণত হব মহীরুহে। পিপল টিভির বর্ষপূর্তিতে কথা দিলাম, আগামী দিনে আরও ঋদ্ধ হব আমরা। ভোরের রাঙা আলোয় প্রিয়ার মুখখানি একটিবার দেখার জন্য যেমন ব্যাকুল হয় পুরুষ হৃদয়, তেমনি পিপল টিভি পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকবেন আপনিও।

সেই নতুন দিনের ভোর আসতে খুব বেশি দেরি নেই বন্ধু!